মহাবিশ্বের অসীম ও অজানা রহস্য উন্মোচনের জন্য যুগের পর যুগ ধরে মহাকাশে পাড়ি জমাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের নভোচারীরা। তবে এত দিন পর্যন্ত নভোচারী হওয়ার পথটি শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য ছিল একপ্রকার অসম্ভব বিষয়। এবার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে অসীম মহাশূন্যে যাওয়ার পথে কোনো বাধা নয়, তা প্রমাণ করতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্যারাঅলিম্পিয়ান এবং সার্জন জন ম্যাকফল। পৃথিবীর কক্ষপথে বসবাস করা প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী হতে যাচ্ছেন তিনি।
জন ম্যাকফলের মহাকাশ যাত্রার পরিকল্পনা
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির নভোচারী রিজার্ভের একজন সদস্য জন ম্যাকফল গত বছরই পৃথিবীর কক্ষপথে বিভিন্ন গবেষণায় অংশ নেওয়ার জন্য সবুজ সংকেত পেয়েছিলেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর ‘হ্যাভেন-১’ স্পেস স্টেশন মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর তিনি পৃথিবীর কক্ষপথে যেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্টার্টআপ ভাস্ট বর্তমানে হ্যাভেন-১ স্পেস স্টেশনটি নির্মাণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি আকারে একতলা বাসের চেয়ে কিছুটা ছোট। এই স্টেশনে সর্বোচ্চ চারজন নভোচারী থাকতে পারবেন। এর ভেতরের অংশ ম্যাপেল কাঠের আবরণ দিয়ে তৈরি। এ ছাড়া পৃথিবী দেখার জন্য এতে একটি গম্বুজ আকৃতির জানালা এবং মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা অতি ক্ষুদ্র অভিকর্ষ নিয়ে গবেষণার জন্য একটি অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগার রয়েছে।
গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
জন ম্যাকফলের দুই সপ্তাহের মিশনে মূলত মহাকাশের পরিবেশ তাঁর শরীরের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে গবেষণা করা হবে। একই সঙ্গে আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রস্থেটিক লিম্বস সঠিকভাবে কাজ করার জন্য ব্যবহৃত সেন্সর ও মাইক্রোপ্রসেসরের ওপর মহাকাশের প্রভাবও গবেষণা করা হবে। জন ম্যাকফলের এই গবেষণা প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য আরও বড় পরিসরে সুফল বয়ে নিয়ে আসতে পারে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও হালকা এবং সহজে মানিয়ে নেওয়া যায়, এমন কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির নকশায় সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি মানুষের হাড়ের ক্ষয় রোগ ও পেশি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যাগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে ভূমিকা রাখবে।
জন ম্যাকফলের জীবন ও প্রেরণা
যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পশায়ারের বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী জন ম্যাকফল মাত্র ১৯ বছর বয়সে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ডান পা হারান। ২০০৮ সালের বেইজিং প্যারাঅলিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছেন তিনি। পরে তিনি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে কাজ শুরু করেন। মহাকাশ ভ্রমণের রোমাঞ্চ নিয়ে ম্যাকফল বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এটি আমার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি একজন ভালো নভোচারী হতে চাই এবং নিজের কাজ খুব ভালোভাবে করতে চাই। এটিই আমার অগ্রাধিকার। আমি চাই না, এটি কোনো চমক বা ফ্যাশন হোক। আমি একজন অগ্রগামী বা পথিকৃৎ হয়ে নতুন কিছু করার সুযোগ পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। তবে সবার আগে আমি নিজের কাজটা ভালোভাবে করতে চাই, যেন তা মহাকাশ গবেষণা এবং পৃথিবীর মানুষের কল্যাণে আসে।



