ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর যুদ্ধের নতুন বার্তা: আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান হত্যায় সন্তোষ
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান মাজিদ খাদেমি হত্যার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়েছেন, ইসরাইল তার যুদ্ধ লক্ষ্য অর্জনে 'পূর্ণ শক্তিতে' অভিযান চালিয়ে যাবে। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ হিব্রু ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে এই হত্যাকে সামরিক বাহিনীর বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি ও যুদ্ধের ঘোষণা
নেতানিয়াহু একই সঙ্গে ইয়াজদান মির-এর হত্যাকেও স্বাগত জানান, যিনি 'সর্দার বাঘেরি' নামে পরিচিত ছিলেন এবং আইআরজিসির কুদস ফোর্সের গোপন ইউনিট ৮৪০-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। নেতানিয়াহুর দাবি, তিনি বিশ্বজুড়ে ইহুদি ও ইসরাইলিদের ওপর হামলার জন্য দায়ী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'যে কেউ আমাদের নাগরিকদের হত্যার চেষ্টা করবে, যে কেউ ইসরাইলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস পরিচালনা করবে কিংবা ইরানের 'অশুভ জোট' গড়ে তুলবে—তার পরিণতির দায় তার নিজেরই। আমরা শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করছি, আমাদের ক্ষতি করতে চাইলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'সব ধরনের হুমকি দূর না হওয়া এবং যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমরা সব ফ্রন্টে পূর্ণ শক্তিতে অভিযান চালিয়ে যাব।' এই বক্তব্য ইসরাইলের ক্রমাগত সামরিক তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
লেবাননে বিমান হামলা ও নিহত কমান্ডার
অন্যদিকে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, লেবাননে এক বিমান হামলায় ইরানপন্থী একটি মিলিশিয়ার জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। আইডিএফের দাবি, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করা 'ইমাম হোসেইন ডিভিশন'-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এতে ওই ইউনিটের আর্টিলারি প্রধান কামিল মেলহেমসহ আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ডিভিশনের কমান্ডারের একজন সহকারীও ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে প্রোক্ষ্যযুদ্ধ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নেতানিয়াহুর বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইসরাইল তার নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে এই ঘটনাগুলো নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কেড়েছে। ইসরাইলের এই পদক্ষেপগুলি যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।



