ইরানের অভিযোগ: উপসাগরীয় দেশে ড্রোন হামলার পেছনে ইসরায়েল ও মার্কিন জোট
ইরানের অভিযোগ: ড্রোন হামলার পেছনে ইসরায়েল

ইরান অভিযোগ করেছে যে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে জ্বালানি ও বেসামরিক স্থাপনায় সম্প্রতি সংঘটিত ড্রোন হামলার ঘটনায় ইসরায়েলের ভূমিকা রয়েছে। তেহরানের দাবি, আরব রাষ্ট্রগুলোকে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের পক্ষে যুদ্ধে টানতে ইচ্ছাকৃতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি

মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে বলেছেন, সৌদি আরব ও ওমানে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো কিছু হামলা আসলে ইসরায়েল চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে পারি, কিছু হামলা আমরা, ইরান চালাইনি।’ এই দাবি উত্থাপনের পেছনে রয়েছে সৌদি আরবে রাস তানুরা তেল শোধনাগার, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস এবং ওমানের দুকম বন্দরে অন্তত পাঁচটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা।

হামলার পটভূমি

ইরানের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ করা হয়েছে এর আগে শনিবার থেকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে। দুই ইরানি সূত্র মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানের ভেতরে মজুত রাখা ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলাগুলো চালিয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, মোসাদের ড্রোন রাখার গুদাম এখন খুঁজে দেখা হচ্ছে এবং এ ধরনের গুদাম ও অপারেশন রুম অন্য দেশেও থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

মোসাদের গুপ্তচর নেটওয়ার্ক

মোসাদের ইরানের ভেতরে বিস্তৃত গুপ্তচর নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয় এবং এর আগেও ইরানি লক্ষ্যগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোপন অভিযানের সঙ্গে মোসাদ জড়িত ছিল। এই নতুন অভিযোগে ইরান দৃঢ়ভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত জোট কাজ করছে।

এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমবর্ধমানভাবে সংঘাতের একটি প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে। ইরানের এই অভিযোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা ও তদন্তের দাবি জানাচ্ছে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষিতে।