মোজতবা খামেনিই কি হবেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা? উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর নামই আলোচনায়
মোজতবা খামেনিই কি হবেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা?

মোজতবা খামেনিই কি হবেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা? উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর নামই আলোচনায়

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আলী খামেনি ছাড়াও তাঁর স্ত্রী, মোজতবার স্ত্রী ও এক বোন নিহত হন, তবে মোজতবা সেদিন হামলাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা ও পশ্চিমা দাবি

আলী খামেনির মৃত্যুর পর কে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হচ্ছেন, তা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও ইরান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, কিন্তু ইসরায়েলি ও পশ্চিমা গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, মোজতবা খামেনিই এই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তিনি কখনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি বা আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করেননি, তবে দশকের পর দশক ধরে সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ মহলে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।

মোজতবার প্রভাব ও বিতর্ক

মোজতবা খামেনি ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন এবং কয়েক বছর ধরে বাবার প্রধান উত্তরসূরি হিসেবে আলোচিত হচ্ছেন। তাঁর বয়স ৫৬ বছর, এবং তিনি কখনো প্রকাশ্যে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেননি। এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ তাঁর উত্তরণ ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগের রাজতন্ত্রের মতো রাজবংশ গঠনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

মোজতবা নিজেকে সবসময় আড়ালে রেখেছেন, জনসভার বক্তৃতা বা রাজনৈতিক ভাষণ দেননি, এমনকি অনেক ইরানি তাঁর কণ্ঠ শোনেননি। তবে সরকারবিরোধীরা দাবি করেন, ২০০৯ সালের 'গ্রিন মুভমেন্ট' সময় নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও বাসিজ বাহিনী ব্যবহারের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িত।

ধর্মীয় যোগ্যতা ও অর্থনৈতিক অভিযোগ

মোজতবা খামেনি 'হুজ্জাত-উল ইসলাম' বা মাঝারি পর্যায়ের ধর্মীয় নেতা, আয়াতুল্লাহ নন, যা বিতর্কের বিষয়। তবে তাঁর বাবাও ১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার সময় আয়াতুল্লাহ ছিলেন না, তখন গঠনতন্ত্র শিথিল করা হয়েছিল। মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, অভিযোগ রয়েছে যে তিনি একাধিক দেশে কোটি কোটি ডলার স্থানান্তর করে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, যদিও নথিপত্রে তাঁর নাম নেই।

বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকায়, নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণার সময়সীমা অনিশ্চিত। ইন্টারনেট বন্ধ ও তথ্যপ্রবাহে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বর্তমানে তিন সদস্যের একটি কাউন্সিল অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়েছে, যেখানে কট্টরপন্থী নেতা আলিরেজা আরাফি, বিচারব্যবস্থার প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রয়েছেন।

ইরানে 'অ্যাসম্বলি অব এক্সপার্টস' বা বিশেষজ্ঞ পর্ষদ সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে, যা ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মীয় নেতা নিয়ে গঠিত। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ৪৭ বছরের ইতিহাসে মাত্র একবার সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হয়েছে। মোজতবা খামেনির উত্তরণ ইঙ্গিত দিতে পারে যে ইরানে কট্টরপন্থীরা প্রভাবশালী এবং সরকারের স্বল্প মেয়াদে আলোচনায় রাজি হওয়ার ইচ্ছা নেই।