ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আল-উদেইদ ঘাঁটি আক্রান্ত, কাতারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক স্থাপনা আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে এই ঘটনা নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান থেকে কাতারকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে প্রথমটিকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মাঝপথেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়। তবে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি রাজধানী দোহার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আল-উদেইদ ঘাঁটির ওপর পড়ে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলায় কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মন্ত্রণালয় আরও দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষার পূর্ণ সক্ষমতা কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে। বাইরের যেকোনো হুমকির কঠোর জবাব দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। একইসঙ্গে, দেশের নাগরিক, প্রবাসী ও দর্শনার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে এবং গুজবে কান না দিয়ে যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করতে বলা হয়েছে।
আল-উদেইদ ঘাঁটির গুরুত্ব ও পূর্বের ঘটনা
দোহার উপকণ্ঠে অবস্থিত আল-উদেইদ ঘাঁটিটি কাতার ও যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনীও ব্যবহার করে থাকে। এই ঘাঁটিটি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রবাহিনীর প্রায় ১১ হাজার সেনা অবস্থান করেন। ২৪ হেক্টর (৬০ একর) এলাকা নিয়ে গঠিত এই ঘাঁটিতে ড্রোনসহ প্রায় ১০০টি উড়োজাহাজ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। ইতিপূর্বে, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বোমা হামলার প্রতিশোধ নিতে এই ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এবারও ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত শনিবার পুরো ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার আরও জানায়, ইরানি হামলা শুরুর পর থেকে কাতারের আকাশসীমার দিকে ৩টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ১০১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৯টি আত্মঘাতী ড্রোন ধেয়ে আসার বিষয়টি তারা শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে সব কটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৪টি ড্রোন মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়েছে। গত শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় ধরনের হামলার পর থেকে পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ওই হামলায় প্রায় ৮০০ মানুষ নিহত হন। এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির ৪৯ জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে হত্যার দাবি করেছে ওয়াশিংটন। এর জবাবে ইসরায়েল এবং মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান।
এই হামলায় আল-উদেইদ ঘাঁটির কোনো বস্তুগত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে, ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
