মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫ দিনে ১৭৩ ফ্লাইট বাতিল
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত পাঁচ দিনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের মোট ১৭৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বাতিলকৃত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে শনিবার ২৩টি, রোববার ৪০টি, সোমবার ৪৬টি এবং মঙ্গলবার ৩৯টি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও, বুধবারের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ২৫টি বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কোন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে?
বাতিলকৃত ফ্লাইটগুলোর তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স রয়েছে। কাতার এয়ারলাইন্সের ৪টি, কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, জাজিরা এয়ারলাইন্সের (কুয়েত) ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৮টি, এমিরেটসের ৫টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের (বাংলাদেশ) ৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এই বাতিলের ফলে হাজারো যাত্রী বিমানবন্দরে ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই জরুরি ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
যুদ্ধ পরিস্থিতি কীভাবে প্রভাব ফেলেছে?
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র গত শনিবার ইরানে হামলা শুরু করার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়। এই সংঘাতের ফলে ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে উড়োজাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। আকাশসীমা বন্ধ থাকায় এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ফ্লাইট সময়সূচি পরিবর্তন বা বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে, যা সরাসরি যাত্রীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
যাত্রীদের উপর প্রভাব
ফ্লাইট বাতিলের কারণে শাহজালাল বিমানবন্দরে ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক যাত্রী তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে হতাশা ও উদ্বেগের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইট বা ফেরতের ব্যবস্থা করতে সাহায্য করলেও, অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে না আসা পর্যন্ত এই ধরনের বিঘ্নিত চলাচল অব্যাহত থাকতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।



