ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির দাফন হবে মাশহাদে, তেহরানে শেষ বিদায়ের আয়োজন
খামেনির দাফন মাশহাদে, তেহরানে শেষ বিদায়ের আয়োজন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির দাফন হবে মাশহাদে, তেহরানে শেষ বিদায়ের আয়োজন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন তাঁর জন্মস্থান মাশহাদ শহরে করা হবে বলে দেশটির সংবাদ সংস্থা ফারস গতকাল মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে। তবে দাফনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মাশহাদ ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং এখানে ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সে খামেনির বাবার সমাধিও রয়েছে, যা এই স্থানটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

তেহরানে শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি

দাফনের আগে রাজধানী তেহরানে খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে 'বড়সড়' আয়োজন করা হবে বলে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ঘোষণা দিয়েছে। এই আয়োজনের তারিখ ও সময়সূচি সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যা দেশটির নাগরিকদের মধ্যে অপেক্ষার আবহ তৈরি করেছে।

হামলায় নিহত হওয়ার ঘটনা

গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তেহরানে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে গত রোববার ভোরে এই নিহত হওয়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, যদিও এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

খামেনির রাজনৈতিক জীবন ও চ্যালেঞ্জ

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন এবং এর আগে তিনি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর ৩৭ বছরের শাসনজীবনে গত জানুয়ারিতে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দরপতন নিয়ে বিক্ষোভ একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল, যেখানে বিক্ষোভকারীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনের ডাক দিয়েছিলেন।

এই ঘটনাটি ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।