ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে ইসরাইলের হামলা: নেতৃত্বহীন করার পরিকল্পনা?
ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেকশিয়ানের কার্যালয়ে ইসরাইলের বিমান বাহিনী হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সংঘটিত এই আক্রমণে প্রেসিডেন্টের দপ্তর এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ভবন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষাবাহিনী আইডিএফ টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা দফায় দফায় বোমা ফেলে এই হামলা পরিচালনা করেছে।
খামেনি হত্যার পর নতুন লক্ষ্য
এই হামলার আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। সেই হামলায় তার এক মেয়ে ও নাতনিও প্রাণ হারান। আহত হয়ে পড়া খামেনির স্ত্রী ২ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। খামেনির সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান, সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের প্রধানের মতো শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারাও নিহত হয়েছিলেন।
হামলার বিস্তারিত
ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিমান বাহিনী তেহরানের সুরক্ষিত কম্পাউন্ডে অবস্থিত প্রেসিডেন্টের দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। এই কম্পাউন্ডটি খামেনির কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। বোমা আঘাত হেনেছে একটি সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং ইরানের শাসকগোষ্ঠীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পাউন্ডেও। সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইসরাইল ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেকশিয়ানকে টার্গেট করে হামলা চালিয়ে দেশটিকে নেতৃত্বহীন করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
পরিস্থিতির মূল্যায়ন
এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার পর প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে হামলা দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোকে দুর্বল করার চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ইসরাইলের এই কৌশলগত আক্রমণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।
সূত্র: এনডিটিভি।



