মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় পাকিস্তানে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার বাতিল
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সব ধরনের ভিসা সাক্ষাৎকার বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার, ৬ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আদেশ ইসলামাবাদ দূতাবাসের পাশাপাশি লাহোর ও করাচি কনস্যুলেটেও প্রযোজ্য হবে, যা পাকিস্তানজুড়ে ভিসা প্রক্রিয়ায় ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
খামেনির মৃত্যুতে পাকিস্তানে উত্তেজনা ও বিক্ষোভ
গত রোববার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেদিনই করাচি কনস্যুলেট ঘেরাও করে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক জানান, করাচিতে শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন কনস্যুলেটে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। করাচি পুলিশ সার্জনের কার্যালয়ের তথ্যমতে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১০ জন নিহত হন ও ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
এর আগে হাসপাতালের একটি তালিকায় ৯ জনের নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যাদের সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়ায়, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে। রাজধানী ইসলামাবাদে কয়েক হাজার মানুষ খামেনির ছবি হাতে রাস্তায় নামেন এবং মার্কিন দূতাবাসের কাছে জড়ো হওয়া ভিড় সরাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। স্কারদু শহরে বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন, লাহোরেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন, যা দেশব্যাপী উত্তেজনার মাত্রা নির্দেশ করে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য পাকিস্তানে অবস্থানরত নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর সরকারও সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, যা আঞ্চলিক শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অনেক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দল খামেনিকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে, যা পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ইরানের প্রতি সমর্থন ও সংহতির ইঙ্গিত দেয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে লক্ষ্যবস্তু না করা একটি দীর্ঘকালীন প্রথা। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, খামেনির শাহাদাতে পাকিস্তানের জনগণ ইরানের শোকাতুর মানুষের পাশে আছে, যা দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ককে প্রতিফলিত করে।
এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
