স্বাস্থ্য নিয়ে গুজব উড়িয়ে আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর গ্রাহামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন আমিরাত প্রেসিডেন্ট
গুজব উড়িয়ে আমিরাত প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ, মার্কিন সিনেটরের প্রশংসা

আবুধাবিতে বৈঠকে আমিরাত প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে গুজব উড়িয়ে দিলেন মার্কিন সিনেটর

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান (এমবিজেড) আবুধাবির কাসর আল শাতিতে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়ানো গুজবগুলোর জবাব হিসেবে দেখা যাচ্ছে। গতকাল বুধবার আমিরাতের প্রেসিডেনশিয়াল কোর্ট প্রকাশিত একটি ভিডিও ফুটেজে প্রেসিডেন্টকে সিনেটর গ্রাহামের পাশে হাস্যোজ্জ্বল ও সুস্থ অবস্থায় দেখা গেছে, সরকারি বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম-ও এই বৈঠকের ছবি প্রকাশ করেছে।

তুরস্কের বিবৃতির পর গুজবের ঢেউ ও সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের একটি বিবৃতির জেরে (যা পরে মুছে ফেলা হয়েছে) অনলাইনে আমিরাত প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এরদোয়ান তাঁর আবুধাবি সফর স্থগিত করার কারণ হিসেবে আমিরাত নেতার 'শারীরিক সমস্যা' উল্লেখ করেছিলেন, যদিও পরে এই বিবৃতি প্রত্যাহার করা হয়। এই ঘটনায় উইকিপিডিয়ায় কিছু সময়ের জন্য এমবিজেডের পাতায় মৃত্যুর খবর জুড়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেটর গ্রাহাম একটি পোস্টে এই দাবিগুলো পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন।

লিন্ডসে গ্রাহাম এক্সে লিখেছেন, 'যাঁরা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট শেখের বিরুদ্ধে মিথ্যা গল্প ছড়াচ্ছেন, তাঁরা আসলে বাজে কথা বলছেন। তিনি শুধু যে বেঁচে আছেন তা-ই নয়, সুস্থও আছেন। তাঁকে আমি যতটা বুদ্ধিদীপ্ত দেখেছিলাম, এখনো তেমনই আছেন।'

আব্রাহাম অ্যাকর্ডস ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট

মার্কিন সিনেটর গ্রাহাম এই বৈঠকে শেখ মোহাম্মদের 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস' গ্রহণ করার সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করেন, যা ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত হয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল। এই চুক্তি নিয়ে এরদোয়ান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং এটিকে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান ফাটলের কারণে আবুধাবির ওপর নজরদারি বেড়েছে, সৌদির অনলাইনে প্রায়ই এমবিজেডকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইয়েমেন ও পুরো অঞ্চলে পরস্পরবিরোধী লক্ষ্যের কারণে সৌদি-আমিরাত সম্পর্ক এখন অংশীদারত্ব থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে, এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দেওয়া সৌদি আরব অভিযোগ করেছে যে আমিরাত উত্তর আফ্রিকা ও হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে ও ইসরায়েলের স্বার্থ হাসিলে কাজ করছে।

এই বৈঠকটি তাই শুধু গুজব প্রত্যাখ্যানই নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যেখানে আমিরাত প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য উপস্থিতি তাঁর নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করছে।