সৌদি আরবে রমজান শুরু কবে? চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে তারিখ
সৌদি আরবে রমজান শুরু কবে? চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর

সৌদি আরবে রমজান শুরু কবে? চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে তারিখ

সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখার জন্য সকল মুসলিম নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় সময় ১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এই আহ্বান জানায়। মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে, যা রমজান শুরুর তারিখ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে রোজার তারিখ

মুসলিম বিশ্ব চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করে, যেখানে প্রতিটি মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ১৭ ফেব্রুয়ারি শাবান মাসের ২৯ তারিখ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটিতে রমজান মাস গণনা শুরু হবে।

অন্যদিকে, চাঁদ দেখা না গেলে বুধবার শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সে ক্ষেত্রে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথম রোজা শুরু হবে। চাঁদ দেখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মঙ্গলবারই জানাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সুপ্রিম কোর্টের আহ্বান ও প্রক্রিয়া

সৌদি সুপ্রিম কোর্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যারা চাঁদের দেখা পাবেন—চোখে কিংবা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে—তাদের নিকটস্থ আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য প্রদান করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে এবং রমজান শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হবে।

আল আরাবিয়া নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি অথবা ১৯ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হবে। কাতার সরকারও মঙ্গলবার চাঁদ দেখার জন্য অনুরূপ আহ্বান জানিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও নির্দেশক হতে পারে।

রমজান মাসের তাৎপর্য

রমজান মাস হলো ইসলামিক চন্দ্র ক্যালেন্ডারের নবম মাস, যা রমজানুল মোবারক নামে পরিচিত। এটি ইসলামের এক মহিমান্বিত মাস, শুধু সিয়াম সাধনার জন্য নয়; বরং আল্লাহর রহমত বর্ষণ, গুনাহ মাফ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির বিশেষ সময়। এ মাসের ফজিলত ও মর্যাদা কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত।

রমজান মাসে মুসলমানরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় খাবার ও পানীয় থেকে এবং অন্যান্য শারীরিক চাহিদা থেকে বিরত থাকে। সূর্যাস্তের পর কিছু খাবার গ্রহণের মাধ্যমে রোজা ভাঙা হয়, যাকে ইফতার বলা হয়। এই মাসটি বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ ও সম্প্রীতির সময় হিসেবে বিবেচিত হয়।