ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনই সবচেয়ে ভালো সমাধান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনই ভালো সমাধান: ট্রাম্প

ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনই সবচেয়ে ভালো সমাধান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনকে উত্তেজনা কমানোর সবচেয়ে ভালো সমাধান হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, '৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথাই বলে যাচ্ছে। এর মধ্যে আমরা অনেক প্রাণ হারিয়েছি।' যদিও তেহরানের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের পর কাকে নেতৃত্বে দেখতে চান, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কিছু বলেননি।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের পরিকল্পনা

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করার পরিকল্পনায় তারা অনড় রয়েছেন। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও বৃহস্পতিবার তিনি এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশ্বের বৃহত্তম ও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড খুব শিগগিরই ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পারমাণবিক চুক্তি ও আলোচনার সম্ভাবনা

পারমাণবিক চুক্তি না হলে ইরানে হামলার হুমকি দিলেও, গত বুধবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলবে। হামলা এড়াতে তেহরানের কী করা উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে শুক্রবার তিনি বলেন, 'তাদের শুরুতেই আমাদের সঙ্গে সেই চুক্তিটা করা উচিত ছিল, এখনও সেটা করলেই ভালো।'

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর সরকার দাবি করছে, তেহরানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে। ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে প্রস্তুত। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, তারা 'অতিরিক্ত দাবির কাছে নতি স্বীকার করবে না।'

পূর্ববর্তী পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি

প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন, যা দেশটির অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে চাপে ফেলে। গত বছর ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের আগে নতুন করে একটি চুক্তির লক্ষ্যে আবারও আলোচনা শুরু করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাননি। ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেছেন, তবে সেখানে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল 'মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি প্রস্তুত করছে পেন্টাগন।'