মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের সাথে উত্তেজনা বাড়ছে
ইরানের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হবে।
দুটি শক্তিশালী রণতরির একসাথে অবস্থান
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড রণতরিটি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হলে সেখানে ইতোমধ্যে অবস্থানরত আরেকটি মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের সাথে মিলিত হবে। ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বর্তমানে আরব সাগরে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ অবস্থান করছে। ফোর্ড মোতায়েন হলে ওই অঞ্চলে দুটি শক্তিশালী মার্কিন রণতরি ও তাদের সহযোগী যুদ্ধজাহাজ একসাথে অবস্থান করবে, যা মার্কিন সামরিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উত্তেজনা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক সতর্কতা
নিউইয়র্ক টাইমস প্রথমে এই মোতায়েনের খবর প্রকাশ করার পর মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি’র খবরেও বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে লোহিত সাগর ও এর আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ইতোমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে যে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের প্রভাব কাটতে না কাটতেই নতুন কোনো হামলা এই অঞ্চলে বড় সংঘাতের সূচনা করতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার ইরানকে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, "যদি তারা চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে তার ফলাফল হবে খুবই যন্ত্রণাদায়ক।" গত সপ্তাহে ওমানে পরোক্ষ আলোচনার পর তিনি জানিয়েছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান। এছাড়া তিনি বুধবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, যেখানে নেতানিয়াহু তেহরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি বন্ধ এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর সমর্থন প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন।
ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংকট
এদিকে, ইরান দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক দুই সংকটে ঘেরাও রয়েছে। গত মাসে দেশজুড়ে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়, যার স্মরণে দেশজুড়ে ৪০ দিনের শোক পালন চলছে। নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানে, সামাজিক মাধ্যমে শোকসভায় দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নির্দেশ করছে।
দীর্ঘায়িত সামরিক মোতায়েন
২০২৫ সালের জুন মাস থেকে মোতায়েন থাকা ইউএসএস ফোর্ডের ক্রুরা প্রায় আট মাস ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছেন। এই নতুন নির্দেশনায় তাদের মোতায়েন আরও দীর্ঘ হতে পারে, তবে হোয়াইট হাউজ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই সামরিক পদক্ষেপ ইরানের উপর চাপ বৃদ্ধির একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে ইরানের সাথে চলমান পরমাণু চুক্তি আলোচনা এবং ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সামরিক চলাচল গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করছে।
