মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ উভয়ই কমে গেছে। বর্তমান ঘাটতি সত্তরের দশকের সংকটগুলোর সম্মিলিত ঘাটতির দ্বিগুণের বেশি। ইরান কাতারের এলএনজি প্ল্যান্টগুলোতে হামলা চালিয়ে ১৭ শতাংশ এলএনজি সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছে। কাতার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পেয়েছে। পূর্বনির্ধারিত কম দামে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করতে কাতার আর বাধ্য নয়। আমাদের চড়া দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি করতে হবে।
কয়লা ও এলএনজি–নির্ভরতার সংকট
কয়লা ও এলএনজি–নির্ভরতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশকে কী ধরনের সংকটের সম্মুখীন হতে হয়েছে, তা আমরা দেখলাম। এর আগেও সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে গিয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিপ্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। এবারও একই পথে হাঁটলে এই নির্ভরতা থেকে মুক্তি আসবে না।
গত দুই দশকে গ্যাসের কূপ খননে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিএনপি সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন কূপ খননের কাজ শুরু করবে বলে তাদের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখ করেছে। আশু সংকট সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও এ উদ্যোগ সময়সাপেক্ষ। এ সময় বাংলাদেশ দ্রুত আর কোনো সমাধানের দিকে যেতে পারে? সৌরবিদ্যুৎকে সমাধান হিসেবে হাজির করা হলে প্রশ্ন ওঠে, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প কি এত দ্রুত শেষ করা সম্ভব, সম্ভব হলে কীভাবে?
ভিয়েতনামের দৃষ্টান্ত
সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম ইতিমধ্যে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০২১ সাল থেকে ভিয়েতনাম কেন দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করায় এগিয়ে গেল, এটা ছিল আমার পিএইচডির গবেষণার বিষয়। করোনার সময় ২০২০ সালে মাত্র এক বছরের মধ্যে ভিয়েতনাম প্রায় ১১ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করেছিল। এর মধ্যে ৪৮ শতাংশ ছিল ‘রুফটপ সোলার’ (ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন)। ২০১৮ সালে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে ২০২০ সালের শেষে ভিয়েতনামের সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ১৬ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়, যা তাদের মোট সক্ষমতার ২৫ শতাংশ ছিল।
সে সময় এর পেছনের কারণ কী, তা অনুসন্ধান করতে ভিয়েতনামে গিয়েছিলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিনিয়োগকারীদের। ভিয়েতনামের এ সফলতার পেছনে কারণ ছিল সরকারের উদ্যোগ ‘ফিড ইন ট্যারিফ’ প্রণোদনা। আমার অনুসন্ধানে উঠে এসেছিল, এই ফিড ইন ট্যারিফ প্রণোদনা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য দিলে এত দ্রুত লক্ষ্য অর্জিত হতো না; বেঁধে দেওয়া হয়েছিল সময়। ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, এক বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে যারা সোলার গ্রিডে যুক্ত করতে পারবে, তারাই ২০ বছরের জন্য নির্দিষ্ট দামে তা বিক্রি করতে পারবে। এই প্রণোদনা শুধু লক্ষ্যই অর্জন করেনি, লক্ষ্য ছাড়িয়ে অভাবনীয় মাত্রায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বুদ্ধ করেছিল।
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ তখন প্রতিদিন একটু একটু করে কমছে। যত দেরিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে, তার খরচ তত কমে আসবে—এ রকম অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা সাধারণত স্পেকুলেশন (অনুমান) করতে থাকেন; খরচ কমার অপেক্ষায় থাকেন। ঠিক সে সময় সরকার যখন উৎপাদন খরচের ওপরে একটা নির্দিষ্ট দাম বেঁধে দেয়, তখন বিক্রির নিশ্চয়তা বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে থাকে।
দেখা গেল, এটুকুই অনেক কাজ করেছে। একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা এত সফল হয়েছে, যা টার্গেট করা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে একটা বাড়তি সুবিধা ছিল, বেশির ভাগ ঋণ দেওয়া হয়েছিল দেশীয় ব্যাংকগুলো থেকে। চীন ও থাইল্যান্ডে যারা সদ্য সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তারা মুহূর্তেই এ প্রণোদনা পেয়ে ভিয়েতনামে এসে হাজির হয়। ব্যাংকগুলো যখন বুঝতে পেরেছিল এই প্রকল্পগুলো থেকে মুনাফা করতে সরকার সহায়তা দিচ্ছে, তখন তারাও ঋণ দিতে দ্বিধা করেনি। এতে ঝুঁকি কমে গিয়েছিল।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে দুই বছর আগেও নির্দিষ্ট ফিড ইন ট্যারিফ ঘোষণা করে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ বাস্তবায়নের কথা শুনলে অনেকেই এটাকে বাস্তবায়নযোগ্য মনে করতেন না। ১৫ বছর ধরে উৎপাদন খরচের ওপরে ফিড ইন ট্যারিফ নির্ধারণ করার কথা বললে শুনতে হতো, সরকার কেন এত আর্থিক বোঝা নেবে। অথচ আমরা দেখলাম, যতটুকু আর্থিক বোঝা তৈরি হতো, তার চেয়ে অনেক বেশি আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এলএনজিভিত্তিক-কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলো। এমনকি পরমাণু প্রকল্প নির্মাণে বিলম্বের সঙ্গে সঙ্গে খরচও দিন দিন বেড়ে চলেছে। সব দিক বিবেচনা করে সরকার সৌরবিদ্যুতে এখন যদি দ্রুত প্রণোদনা দেয়, তাহলে দ্রুত তিন হাজার থেকে চার হাজার মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা হলো, মুখে সবুজ বিনিয়োগের কথা বলা হলেও বাস্তবে অর্থিক ঝুঁকি বিবেচনায় ব্যাংকঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। বাংলাদেশে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা যে ঝুঁকি তৈরি করে, তাতে ঋণ আদায়ের ব্যাপারে আস্থার সংকট থেকে যায়। জানুয়ারি মাসে সিপিডি আয়োজিত একটি সেমিনারে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকটের একটা চিত্র উঠে আসে। সেখানে পিডিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন কীভাবে ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি দিনের পর দিন আর্থিক বোঝা বহন করে চলেছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলেন, কেন চুক্তির মাধ্যমে বিক্রির নিশ্চয়তা না পেলে তাঁদের জন্য উৎপাদনে যাওয়া কঠিন। তাঁরা প্রকল্প শেষ করে যদি নির্দিষ্ট দামে বিক্রির নিশ্চয়তা না পান, তাহলে তাঁদের বিনিয়োগের প্রবণতা কমে যায়।
অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত জ্বালানি আইন, ২০১০ বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনার সরকারের সময় এ আইনের আওতায় ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ (এলওআই) পাওয়া মোট ২ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থগিত করে। এর মধ্যে অনেক বিনিয়োগকারী তত দিনে জমি অধিগ্রহণ ও অর্থায়নের ব্যবস্থা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এলওআই বাতিলের পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় মোট ৫৫টি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র (৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট) স্থাপনের জন্য কয়েক দফায় দরপত্র আহ্বান করে। এসব দরপত্র আহ্বান করা হয় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০০৮-এর অধীনে, বিদ্যুৎ খাতে ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশায়। তবে ১৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্যাকেজে কোনো দরপত্রই পাওয়া যায়নি।
আগের পরিকল্পিত প্রকল্পগুলো কমিটি নতুন করে পুনর্মূল্যায়ন করে। পুনর্মূল্যায়নের পর দেখা গেল, গড়ে প্রকল্পের প্রস্তাবিত দাম ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। কীভাবে এই দাম কমে গেল, তা নিয়ে বিনিয়োগকারী ও সরকারি বিভিন্ন মহলের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা ও তাঁদের পরামর্শকেরা বলছেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে এই দাম কমেছে। অন্যদিকে সরকারি বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, আগের মূল্যায়নের মধ্যে স্বচ্ছতার অভাব ছিল, প্রতিযোগিতামূলক বিডিং হয়নি; বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের কারণে এই দাম বেশি ছিল; পুনর্মূল্যায়নের কারণে এই দাম কমিয়ে আনা গেছে।
দুটি কারণই হয়তো সৌরবিদ্যুতের প্রস্তাবিত দাম কমিয়ে আনতে ভূমিকা রেখেছে। যে কারণেই দাম কমুক, এখন এই দাম কমে যাওয়া এবং অন্যদিকে তেল, কয়লা ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সৌরশক্তি অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসের তুলনায় প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। এই সময়টাকে দ্রুত কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারে।
রুফটপ সোলার ও অন্যান্য সম্ভাবনা
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্যানেল বেশির ভাগ আসে চীন থেকে। অনেক প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ, যাচাই–বাছাই, দাম পুনর্মূল্যায়ন—এগুলো হয়েই আছে। এখন দ্রুত এগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের দিক থেকে কিছু প্রণোদনা দিতে হবে।
দেশজুড়ে ছাদভিত্তিক প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কারখানা, বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার স্থাপন করে জ্বালানি সাশ্রয় করা যায়। রুফটপ সোলারের সম্ভাবনা নিয়ে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গবেষণা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে রক্ষণশীল হিসাব অনুযায়ী, ন্যূনতম ৪ হাজার মেগাওয়াট রুফটপ সোলার স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। ১০ শতাংশ ছাদে স্থাপন করলে ১০ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি উৎপাদন করা সম্ভব। সৌর সেচেও বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫২৪টি সিস্টেম স্থাপন করে ৬০ দশমিক ৭ মেগাওয়াট সাশ্রয় করেছে। মাঠপর্যায়ে অর্থনৈতিক ও ব্যবস্থাপনাগত প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে সৌর সেচেও জরুরি ভিত্তিতে প্রণোদনা দেওয়া উচিত।
পাকিস্তানের উদাহরণ
বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে একটি উদাহরণ হচ্ছে পাকিস্তানের সৌরবিদ্যুৎ। বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানও কয়লা ও এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছিল। তারাও তাদের গ্যাস উত্তোলনের ব্যাপারে পিছিয়ে রয়েছে। এলএনজি ও কয়লার ওপর নির্ভরতা, অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ, পাকিস্তানি রুপির দরপতন পাকিস্তানের বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গিয়ে সেই খরচ বহুলাংশে কমে গেছে। বিদ্যুতের সংকট থেকে রক্ষা পেতে ও অর্থ সাশ্রয় করতে গিয়ে জনগণ নিজ উদ্যোগে সোলার রুফটপ স্থাপন শুরু করে। এতে দ্রুত সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বাড়তে থাকে। হিসাব করে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে পাকিস্তান এলএনজি ও তেল আমদানির খরচ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বাঁচিয়েছে। শুধু পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ, যেমন ভারত ও শ্রীলঙ্কাও দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিত পাকিস্তানের চেয়ে ভিন্ন। এখানে সৌরবিদ্যুতের ওপর জনগণের আস্থার ঘাটতি রয়েছে। দেশে প্রায় ৬ মিলিয়ন সোলার হোম সিস্টেম রয়েছে। এর একটা বড় অংশ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো হয়ে গেছে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে ভোক্তারা উপকৃত হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতারিত হয়ে সৌরবিদ্যুতের ওপর আস্থা হারিয়েছে। ঢাকা শহরে আবাসিক ভবনগুলোতে ‘সোলার রুফটপ’ আবশ্যক বহুদিন ধরে। কিন্তু দেখা গেছে, এই সোলার রুফটপ স্থাপনের নামে নানা অসাধু কর্মকাণ্ড ঘটে।
মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সরকারপ্রদত্ত শর্ত পূরণের জন্য একটা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেট সস্তা নিম্নমানের প্যানেল বসিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করে। কিন্তু সেগুলো কোনো কাজে আসে না। আবার কখনো দেখা গেছে, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঠিকমতো কাজ করে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্যানেল বসানো হলেও নেট মিটারিং চালু থাকে না।
এ জন্য বার্ষিক সার্ভিসের বিনিময়ে পাড়ায় পাড়ায় রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে সোলার প্যানেলগুলো যেমন চালু রাখা যাবে, তেমনি সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণকে কেন্দ্র করে তরুণদের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। নষ্ট সোলার প্যানেল ভাড়া দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিটি নতুন সংযোগের তথ্য ডিজিটাল আর্কাইভ করে সংরক্ষণ করতে হবে। এ ধরনের নজরদারি ও জবাবদিহির মেকানিজম চালু করলে এই অসাধু তৎপরতা বন্ধ হবে এবং ভোক্তার আস্থা ফিরে আসবে। এভাবে একটি সামাজিক আন্দোলন পারে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে।
সম্ভাবনার পথে
দ্রুত সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বাড়ানো কোনো কল্পকাহিনি নয়। এগুলো বাস্তবেই ঘটছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক প্রণোদনা, প্রতিবন্ধকতাগুলোকে চিহ্নিত করা, সমাজে এর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা, নাগরিকদের দরজা পর্যন্ত সেবা দিয়ে আস্থার সংকট থেকে বের করে আনা, সৌর সরঞ্জামের ওপর ট্যাক্স তুলে নেওয়া এবং খরচ কমিয়ে আনা। সোলারের ক্ষেত্রে একটা বড় সুবিধা হলো, এতে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয় না। বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়ে গ্রিডে সরবরাহ হলে শুধু যেটুকু সরবরাহ হবে, ততটুকুই সরকার কিনতে পারে।
কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নির্মাণ করে আমরা একটি চক্রের মধ্যে আটকে গেছি। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তৈরি হয়ে গেছে বলে সেগুলোর জন্য দেশীয় কয়লা উত্তোলন করার অর্থ হচ্ছে, বাংলাদেশ আর সৌরশক্তি নিয়ে এগোতে পারবে না। কয়লার ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রয়োজন কয়লা থেকে বের হয়ে আসার পরিকল্পনা (ফেজ-আউট) প্রণয়ন করা এবং সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে অর্থ সাশ্রয় করা।
বর্তমান সংকটে বাংলাদেশ কোন পথে যাবে, তা নির্ধারণ করার সময় এখনই। নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশ ঘটাতে এর চেয়ে মোক্ষম সুযোগ আর পাওয়া যাবে না।
ড. মোশাহিদা সুলতানা সহযোগী অধ্যাপক, অ্যাকাউন্টিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



