ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১,৭০০ ছাড়িয়েছে, অস্থায়ী মর্গে মরদেহ শনাক্ত
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত ১,৭০০ ছাড়িয়েছে

ভেনেজুয়েলার বন্দরনগরী লা গুয়াইরায় অস্থায়ী মর্গে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা তপ্ত রোদের মধ্যে সারিবদ্ধভাবে রাখা মরদেহগুলো পরীক্ষা করছেন। মরদেহগুলো কালো ব্যাগে মোড়ানো। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প রাজধানী কারাকাসের কাছে উপকূলীয় এই অঙ্গরাজ্যকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

মৃতের সংখ্যা ১,৭০০ ছাড়িয়েছে

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর হাসপাতালের মর্গে জায়গা না থাকায় বন্দর এলাকাটিকে অস্থায়ী মর্গে রূপান্তর করা হয়েছে। সেখানে চারদিকে ছড়িয়ে আছে মরদেহের ব্যাগ ও কফিন। কিছু মরদেহের পচনপ্রক্রিয়া ধীর করতে চুন ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্বজনদের অপেক্ষা

২৫ বছর বয়সী উইলকার মোল্লালা স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করার জন্য ডাক পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা ভেতরে আছে। আমাকে বলা হয়েছে, আমার বোন ও তাঁর সন্তানেরা সেখানে আছে। আমার ভাইয়ের সন্তানেরাও আছে।’ তাঁর ১১ সদস্যের পরিবারের মধ্যে এখন শুধু তিনি এবং তাঁর ভাই বেঁচে আছেন। ভূমিকম্পের সময় দুজনই কর্মস্থলে ছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আংটি দেখেই চিনেছি

৪১ বছর বয়সী অ্যান্থনি মারকানো বলেন, ‘গতকাল এসেছিলাম। চারদিকে ঘুরেও মেয়েকে খুঁজে পাইনি। আজ আবার এলাম। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমি ওকে পেয়েছি। আমি ওকে শনাক্ত করতে পেরেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি ওকে একটা আংটি উপহার দিয়েছিলাম, সেটা দেখেই তাকে চিনেছি।’ পোশাক আর হাতে থাকা আংটি ছাড়া মরদেহটি চেনার আর কোনো উপায় ছিল না।

জাতিসংঘের উদ্যোগ

কত মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে, সে বিষয়ে সরকারি কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি। তবে জাতিসংঘের ধারণা, এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থাটি ১০ হাজার মরদেহের ব্যাগ পাঠাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মর্যাদাপূর্ণ বিদায়

ভেনেজুয়েলাজুড়ে সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অনেক বেসরকারি শেষকৃত্য প্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যে মরদেহ বহনের গাড়ি সরবরাহ ও দাহ করার ব্যবস্থা করছে। ৩৭ বছর বয়সী ডারউইন সিলভা মায়ের মরদেহ নিতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘তাঁকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা আমাকে মৃত্যুসনদও দিয়েছেন।’ নিজের শোক সামলানোর চেষ্টা করে অন্য পরিবারগুলোকেও পরামর্শ দেন অ্যান্থনি মারকানো। বলেন, ‘ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন, যেন অন্তত আপনার প্রিয়জনকে মর্যাদার সঙ্গে শেষবিদায় দিতে পারেন।’