কুড়িগ্রামে নদীর পানি কমলেও দুধকুমার বিপৎসীমার ওপরে, পানিবন্দী ৫ হাজার পরিবার
কুড়িগ্রামে নদীর পানি কমলেও দুধকুমার বিপৎসীমার ওপরে

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় কুড়িগ্রামের সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে দুধকুমার নদের পানি নামলেও এখনো বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদী–অববাহিকার প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

পানি কমার বর্তমান অবস্থা

আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, উজানের ঢল কমে যাওয়ায় জেলার সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি স্তরের বিস্তারিত তথ্য

ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৬ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের নুনখাওয়া পয়েন্টে ২৬ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ২৩ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার, তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে ২৯ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার এবং দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে ২৯ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুধকুমার নদের কারণে প্লাবিত এলাকা

দুধকুমার নদের পানি বাড়ায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙ্গা, ছিট পাইকেরছড়া ও চর বলদিয়া এবং নাগেশ্বরী উপজেলার চরবিষ্ণুপুর, বালাবাড়ি, চর লুছনি, ফান্দরচর ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ঢেবঢেবীর চর, কাঠগিরী এবং কৃষ্ণপুর এলাকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে নিচু এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় প্রতিনিধির বক্তব্য

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, 'দুধকুমার নদের পানি বেড়ে মিয়াপাড়া, মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ সড়ক ডুবে গিয়ে ওপর দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকেছে। এ ছাড়া দুধকুমার নদের পানি বেড়ে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।'

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পদক্ষেপ

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, 'গতকাল বিকেল থেকে জেলার সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। দুধকুমার নদের পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নাগেশ্বরী উপজেলার মুড়িয়ারহাট এলাকায় ডুবে যাওয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় আমরা জিও ব্যাগ ফেলে পানি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এনেছি।'

জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, 'জেলার পানিবন্দী মানুষের জন্য নগদ দুই লাখ টাকা এবং ১ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনা খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।'