চিলির জাতীয় কবি পাবলো নেরুদা (১২ জুলাই ১৯০৪—২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩) বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর কবিতায় চিলির চড়াই-উতরাই, মেহনতি মানুষের বিজয়ের অবশ্যম্ভাবিতা, তাদের সুখ-দুঃখ, অশ্রু আর স্বপ্ন অবিস্মরণীয়ভাবে চিত্রিত হয়েছে। গোটা লাতিন আমেরিকা প্রতিরোধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে তাঁর কবিতায়।
প্রাথমিক জীবন ও সাহিত্যিক সূচনা
পাবলো নেরুদা ১৯০৪ সালের ১২ জুলাই চিলির পারলালে এক রেলশ্রমিকের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম রিকার্দো এলিয়েসের নেফতালি রেইয়েস বাসোয়ালতো। নিকটবর্তী টেমুকো শহরেই তিনি বেড়ে ওঠেন। ১৯২৩ সালে ১৯ বছর বয়সে প্রকাশিত 'ক্রেপুসকুলারিও' (ছায়ার সমাবেশ)-এর লেখক হিসেবেই তিনি পাবলো নেরুদা নামটি প্রথম ব্যবহার করেন। উনিশ শতকের চেকোস্লোভাকিয়ার কবি জান নেরুদার (১৮৩৪-১৮৯১) নাম থেকে তিনি ছদ্মনামের পদবিটি গ্রহণ করেন।
১৯২৪ সালে নেরুদার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'কুড়িটি প্রেমের কবিতা ও একটি হতাশার গান' প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কবিকে এনে দেয় জনপ্রিয়তা। স্পেনীয় কবিতার জগতে নেরুদার আবির্ভাব হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো সবাইকে চমকৃত করে দেয়।
রাজনৈতিক জীবন ও বিশ্বশান্তি আন্দোলন
নেরুদা চিলির কনসাল হিসেবে রেঙ্গুন, কলম্বো, বাটাভিয়া, সিঙ্গাপুর, মাদ্রিদ, বুয়েনস এইরেস, প্যারিস ও মেক্সিকো শহরে কাজ করেছেন। সফর করেছেন চীন, ভারত, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বশান্তি আন্দোলনের নেতা হিসেবে ভ্রমণ করেছেন সারা ইউরোপ। স্পেনের গৃহযুদ্ধের সময় প্রজাতন্ত্রী দেশপ্রেমিকদের সর্বপ্রকার সহযোগিতা করেছেন, স্পেনীয় শরণার্থীদের জন্য সাহায্য তহবিল গঠন করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মেক্সিকোর রাস্তার দেয়ালে দেয়ালে স্তালিনগ্রাদের সমর্থনে সেঁটেছেন পোস্টার। ১৯৪৫ সালে শ্রমিক-জনসাধারণের ভোটে সিনেটে নির্বাচিত হন।
১৯৫০ সালে পাবলো নেরুদা বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ গায়ক পল রবসনের সঙ্গে একত্রে বিশ্বশান্তি পুরস্কার লাভ করেন। তিনি স্তালিন শান্তি পুরস্কার (পরবর্তী সময়ে যা লেনিন শান্তি পুরস্কার নামে পরিচিত) পান ১৯৫৩ সালে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পাবলো নেরুদাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করা হয় ১৯৬৫ সালে। তিনিই প্রথম লাতিন আমেরিকান সাহিত্যিক, যাঁকে এ সম্মানে ভূষিত করা হয়।
নোবেল পুরস্কার অর্জন
চিলির এই মহান কবিকে ১৯৭১ সালে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। 'একটি মহাদেশের ভাগ্য ও স্বপ্নকে জীবিত করে তোলার আদি শক্তিকে কার্যকর করে কবিতা রচনা'র জন্যই সুইডিশ একাডেমি পাবলো নেরুদাকে নির্বাচিত করেছে বলে ঘোষণা করে। দেরিতে হলেও এ সংবাদে বিশ্ববাসী আনন্দিত হয়েছিল। পাবলো নেরুদার নোবেল পুরস্কার লাভ এক অর্থে বিশ্বশান্তি আন্দোলনের বিরাট বিজয় বলে স্বীকৃত হয়েছিল। কারণ, পাবলো নেরুদা কমিউনিস্ট। তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বিশ্বের নিপীড়িত জাতিসমূহের অন্তরঙ্গ সুহৃদ।
অনেক সমালোচকের মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্যই তিনি আরও আগে নোবেল পুরস্কার পাননি।
সাহিত্যকর্ম ও শৈলী
জীবনদর্শন হিসেবে মার্ক্সবাদকে গ্রহণ করার পর থেকেই পাবলো নেরুদার কবিতা পায় প্রচণ্ড গতি, ভরাট নদীর মতো কানায় কানায় ভরে ওঠে আর তা আছড়ে পড়ে শতাব্দীর পোড় খাওয়া মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে। বিচ্ছিন্ন চিন্তাধারার উত্তরণ ঘটল বিংশ শতাব্দীর সংগ্রামী মেহনতি মানুষের সঙ্গে একাত্মতায়, বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের মৌল দায়িত্ববোধে।
এ প্রসঙ্গে আর্জেন্টিনার লা হোরা পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে পাবলো নেরুদা বলেছিলেন, 'আমার সাহিত্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে এক অচল অবস্থায় পৌঁছে আমি বেরোবার একটা ভালো পথ খুঁজে বের করতে চেয়েছিলাম। দুঃখের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্যেই আমি সে পথ খুঁজে পেয়েছি।...লেখক হিসেবে আমি শূন্য রাতে প্রাচীর ভেঙে বেরোবার চেষ্টায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। এখন আমি সুখী। আমাদের পথের মাঝখান দিয়ে চলতে হবে—চলতে হবে জীবনের দিকে। রাজনীতি থেকে দূরে সরে থাকে যে লেখক, সে হলো কল্পকাহিনির জীব; সে কল্পকাহিনি আবিষ্কার ও পোষণ করেছে ধনতন্ত্র।...আমাদের একটা আলাদা জগৎ গড়তে হবে, সেটা এত শোক-দুঃখ ভরা থাকবে না, তা হবে সুখের জগৎ। তার জন্য লেখককে হতে হবে এক বিরাট বাহিনীর সৈনিক। তাকে না থেমে বা ওদিক-সেদিক না করে এগিয়ে চলতে হবে।'
বহু সমালোচক নেরুদাকে 'রাজনৈতিক' কবিতার লেখক হিসেবে চিত্রিত করে তাঁকে খাটো করতে চেয়েছেন। যেমনটা চেষ্টা করা হয়েছিল মায়াকভস্কির ক্ষেত্রেও। পাবলো নেরুদা স্বয়ং হৃদয়ে স্পেন কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতায় ঘোষণা করেছেন, কেন তিনি এ ধরনের কবিতা লেখেন, যা তথাকথিত সমালোচকেরা কবিতার উপকরণ হিসেবে গ্রহণ করতে নারাজ।
উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ও কবিতা
নেরুদার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ১৯২৬ সালের বেস্টসেলার নিরন্তন মানুষের সন্ধানে সে সময়ের কঠোর নৈতিকতাবাদী সমাজেও প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই কাব্যগ্রন্থের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রয়েছে আজও। এই কাব্যগ্রন্থের ২০টি কবিতা সিরিজের শেষটির কিছু অংশ উদ্ধৃত করছি, যাতে মানবজীবনের চিরন্তন অনুভূতি প্রকাশিত হয়েছে অত্যন্ত সহজভাবে। কবি তাঁর প্রেমিকার কথা বলছেন, যার সঙ্গে তাঁর এখন আর কোনো সম্পর্ক নেই। কবির বর্তমান নিঃসঙ্গ দুঃখভরা স্মৃতি বারবার তাঁকে পিছু টানছে। যদিও কবি বুঝতে পারছেন, তাঁর প্রেমিকার অনুপস্থিতি চিরস্থায়ী, তবু কবির নিঃসঙ্গতারও ক্ষান্তি নেই। 'আজ রাতে আমি লিখতে পারি' কবিতায় লিখেছেন:
আজ রাতে আমি সবচেয়ে বিষণ্ন পঙক্তিমালা লিখতে পারি।
যেমন উদাহরণস্বরূপ লিখতে পারি, 'রাতটি বিচূর্ণ
এবং নীল নক্ষত্রমালা দূরে কম্পমান।'
রাতের হাওয়া আকাশে ঘুরে ঘুরে গান গায়।
আজ রাতে আমি বিষণ্নতম পঙক্তিমালা রচনা করতে পারি।
আমি ওকে ভালোবাসতাম এবং কখনো সে আমাকেও ভালোবাসত।
আজকের মতো অনেক রাতজুড়ে আমিও তাকে ভালোবাসতাম
কী করে কেউ ওর দিঘল, প্রশান্ত চোখ ভালো না বেসে পারবে?
সে আমার ভাবনার নয়, তাকে হারিয়ে ফেলেছি অনুভব করা—
আজ রাতে আমি বিষণ্ন পঙক্তিমালা রচনা করতে পারি।
শোনো, তার বিহনে অধিকতর ভারাক্রান্ত আত্মার কবিতা
ফসল-খেতে শিশিরের মতো ঝরে।
আমার ভালোবাসা ওকে ধরে রাখতে পারেনি।
এতে কী এসে-যায়! চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে এই রাত আর সে
আমার সঙ্গে নেই।
এটাই সব। দূরে গান গাইছে কেউ, দূরে তাকে হারিয়েছে
বলে আমার আত্মা সন্তুষ্ট নয়।
আমার দৃষ্টি তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে, যেন তার কাছে যেতে
চাইছে। আমার হৃদয় ওকে খুঁজছে, আর সে আমার সঙ্গে নেই।
একই রাত্রি একই গাছগুলোকে সাদা করে ফেলছে।
সেই সময়ের আমরা আর একরকম নই।
আমি আর ওকে ভালোবাসি না, এটা নিশ্চিত! অথচ
কী ভালোই-না ওকে বাসতাম! আমার কণ্ঠস্বর তার শ্রুতি
স্পর্শ করার জন্য বাতাসকে খুঁজত।
অন্যের, সে অন্যের হয়ে যাবে। আমার আগের চুমোর মতো
তার কণ্ঠস্বর, তার উজ্জ্বল শরীর, তার অসীম নয়ন।
এটা নিশ্চিত, আমি আর ওকে ভালোবাসি না; কিন্তু
হতে পারে আমি ওকে ভালোবাসি। ভালোবাসা
এত ক্ষণস্থায়ী, বিস্মৃতি বড় দীর্ঘস্থায়ী।
কারণ, এ রকম রাতে আমি তাকে আমার বাহুতে
জড়িয়ে ধরেছিলাম; আমার আত্মা তাকে হারিয়ে ফেলেছে।
যদিও আমাকে সে এটা শেষ যন্ত্রণা হিসেবে ভুগিয়েছে
এবং এই শেষের কবিতা তার উদ্দেশেই লিখেছি।
(অনুবাদ: শামসুর রাহমান)
স্পেনের গৃহযুদ্ধ ও সাহিত্যে প্রভাব
পাবলো নেরুদার বিশ্ব সম্পর্কে ধ্যানধারণার পরিবর্তনে এবং মানবজাতির মুক্তিসংগ্রামে তাঁর যোগদানকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে স্পেনের গৃহযুদ্ধ। ১৯৩৬ সালে স্পেনের গৃহযুদ্ধের সময় নেরুদা ছিলেন সেখানে। হিটলার-মুসোলিনির সাহায্য-সমর্থনপুষ্ট জেনারেল ফ্রাঙ্কো জনপ্রিয় প্রগতিশীল প্রজাতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ফ্যাসিবাদকে রুখতে বীর স্পেন তখন লড়ছিল, জ্বলছিল আর রক্ত দিচ্ছিল। সারা বিশ্বের গণতান্ত্রিক আর প্রগতিশীল মানুষ স্পেনের পক্ষে দাঁড়ালেন। আন্তর্জাতিক ব্রিগেডে যোগ দিলেন দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ শিল্পী-সাহিত্যিক আর বিবেকবানেরা। নেরুদা তাঁদের সংস্পর্শে এলেন। মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর গভীর প্রত্যয় নিয়ে মাদ্রিদ প্রতিরক্ষার দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হলো স্পেন ইন দ্য হার্ট, যার ভূমিকায় লেখা ছিল, 'গণতন্ত্রের সৈনিকেরা এই বইয়ের কাগজ বানিয়েছেন, ছাপার অক্ষরগুলো কম্পোজ করেছেন এবং বইটির মুদ্রণ সমাধান করেছেন।'
এই কাব্যগ্রন্থের 'শহীদ প্রজাতন্ত্রীদের মায়েদের উদ্দেশে' কবিতায় উচ্চকণ্ঠে নেরুদা ঘোষণা করেছেন, 'ছুড়ে ফেলে দাও/ তোমাদের শোকবস্ত্র, সঞ্চিত করো একত্র অশ্রুজল,/ যতক্ষণ না তারা পরিণত হয় অস্ত্রে।' (অনুবাদ: মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়)
নির্বাসন ও প্রত্যাবর্তন
১৯৪৮ সালে নেরুদা পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপন করতে বাধ্য হন। সে সময় তিনি সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে দিন কাটিয়েছেন। সাহায্য গ্রহণ করেছেন। সেসব দিনের কথা 'পলাতক' কবিতায় অপূর্ব সজীবতা পেয়েছে। তিনি লিখেছেন, 'আমার জন্য সব দরজাই উন্মুক্ত হাট হাট খোলা।' অবশেষে আন্দিজ পর্বতমালার সীমান্ত অতিক্রম করে তিনি আর্জেন্টিনায় চলে আসেন। তারপর তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলো পরিভ্রমণ করেন।
নির্বাসিত দিনগুলোতে নেরুদা কবিতা রচনা করেন অব্যাহত গতিতে এবং অত্যাচারী ভিদেলার বিরুদ্ধে যেকোনো প্রকার সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। সে সময়েই প্রকাশিত হয় নেরুদার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ 'কান্তো হেনেরাল', যাতে বিধৃত হয়েছে লাতিন আমেরিকার প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান সময়ের ইতিহাসের কিছু নকশা। আছে মহাদেশের অগ্ন্যুদগিরণকারী রূপ আর তার খণ্ড খণ্ড ছবি। এই কাব্যগ্রন্থের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি হলো 'মাচুপিচুর শীর্ষে' কবিতাটি।
অবশেষে ১৯৫২ সালের আগস্ট মাসে পাবলো নেরুদা ফিরে আসেন প্রিয় মাতৃভূমি চিলিতে। সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সালভাদোর আয়েন্দের পক্ষে প্রচারকার্যে অবতীর্ণ হন।
সাহিত্যিক প্রভাব ও উত্তরাধিকার
পাবলো নেরুদার কাব্যধারা ক্যাস্টালিয়ান কবিতার সুমহান ঐতিহ্য আর চিলির লোকসাহিত্যের অপূর্ব ভান্ডারে সমৃদ্ধ হয়েছে। ফরাসির দুই মহান কবি শার্ল বোদলেয়ার আর তরুণ বিদ্রোহী কবি আর্তুর র্যাঁবোকে আত্মস্থ করেছেন তিনি গভীরভাবে। অন্যদিকে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কবি ভ্লাদিমির মায়াকভস্কি আর আমেরিকার গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বর ওয়াল্ট হুইটম্যানকে আকণ্ঠ পান করেছেন নেরুদা। নেরুদা লিখেছেন, 'আমরা সেই তরুণ বয়সে মায়াকভস্কির গলার স্বরে চমকে উঠলাম—মিঠি মিঠি শব্দের ভুবনে আওয়াজ বাজতে লাগল যেন পুরোনো বাড়ি ধসিয়ে দেওয়া রাজমিস্ত্রির হাম্বুর।'
পাবলো নেরুদা একজন চিলিয়ান—একজন কবি, যিনি চিলির সাধারণ মানুষ এবং জনসাধারণের সবচেয়ে ঐতিহ্যশালী সংগঠিত পার্টি-কমিউনিস্ট পার্টি থেকেই পান তাঁর কাব্য সৃষ্টির প্রেরণা। চিলির কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং সেখানকার শ্রমিক আন্দোলন ও গণ-আন্দোলনের 'জনক' বলে পরিচিত লুইস এমিলিও রেকাবেরেন—তাঁর উদ্দেশে লেখা 'চিলির জনক' কবিতায় নেরুদার কাব্য সৃষ্টির উৎস প্রস্ফুটিত হয়েছে সহজ-সুন্দরভাবে।



