ইরান যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকায় চীন ও রাশিয়াকে ধন্যবাদ ট্রাম্পের
ইরান যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকায় চীন ও রাশিয়াকে ধন্যবাদ ট্রাম্পের

জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনের এক ফাঁকে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনস শহরে, ১৭ জুন ২০২৬।

চীন ও রাশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা

ইরানের সঙ্গে মার্কিন–ইসরায়েলি যুদ্ধের সময় ‘নিরপেক্ষ’ থাকায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্যমতে, তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টায় চিন পিং বা পুতিন বাধা সৃষ্টি করেননি।

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনস শহরে গতকাল বুধবার জি-৭–এর শীর্ষ সম্মেলনের এক ফাঁকে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এ কথা বলেন। এতে ইরান যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার জন্য সি ও পুতিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চুক্তি প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য

ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাঁদের (সি ও পুতিন) ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ তাঁরা বিষয়টিকে অনেক সহজ করে দিয়েছিলেন।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চীন ও প্রেসিডেন্ট সিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। তিনি নিরপেক্ষ ছিলেন, পুরোপুরি নিরপেক্ষ ছিলেন। আমি এর প্রশংসা করি।’

এরপর ট্রাম্প যোগ করেন, ‘আমি ভ্লাদিমির পুতিনকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনিও বেশ নিরপেক্ষ ছিলেন। তাঁরা চাইলে আমাদের জন্য বিষয়টি অনেক বেশি কঠিন করে তুলতে পারতেন।’

মিত্রদের প্রতি বিপরীত অবস্থান

ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্য জাপান থেকে শুরু করে ইউরোপের মতো মার্কিন মিত্রদের প্রতি তাঁর করা মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ও হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে সহায়তা না করায় ট্রাম্প এই মিত্রদের সমালোচনা করেছিলেন।

মস্কো ও বেইজিং উভয় দেশের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রাশিয়া আগেই বলেছিল, এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চীনের ভূমিকা

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ইরানের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছিল চীন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, সামরিক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন পণ্য যুদ্ধের সময় তেহরানকে সরবরাহ করেছিল বেইজিং। এ ছাড়া যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চীনের কিছু তেল শোধনাগার ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনেছিল।

তবে ট্রাম্প দাবি করেন, সি চিন পিং এই সংঘাত নিরসনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন এবং ইরানে ‘বড় কোনো সমরাস্ত্র’ বা কাঁধে রেখে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানো থেকে বিরত ছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘তাঁরা চাইলে দুপাশে ছয়টি যুদ্ধজাহাজসহ একটি তেলের জাহাজ পাঠাতে পারতেন; কিন্তু তাঁরা তা করেননি। প্রেসিডেন্ট সি আমাকে সাহায্য করেছেন। তিনি সাহায্য করার চেষ্টা করেছিলেন এবং আমার মনে হয় সম্ভবত তিনি এটি (যুদ্ধ) সমাধানে সহায়তা করেছেন।’

চীনা ও রুশ প্রতিক্রিয়া

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনের দূতাবাসের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, তাঁদের অবস্থান ‘সব সময়ই এক’ ছিল এবং তাঁরা ‘যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম’ করে গেছেন।

এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।