তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি চুক্তি নস্যাৎ করার সুযোগ ইসরাইলকে কোনোভাবেই দেওয়া উচিত হবে না। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থন অপরিহার্য।
ইস্তাম্বুলে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান
সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান এ কথা বলেন। সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টাকে বানচাল করার চেষ্টার জন্য এ সময় তিনি ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেন। শাহবাজ শরিফকে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর অংশগ্রহণ ও সমর্থন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি অর্জন করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলোর সদিচ্ছা ও অবদান থেকে শক্তি সঞ্চয় করে না, এমন কোনো সমাধানই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।’ দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং নতুন করে সংঘাত রোধে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন তুরস্কের এই নেতা।
ইসরাইলের অপচেষ্টা পর্যবেক্ষণ করছে আঙ্কারা
এরদোগান জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক নস্যাৎ করতে ইসরাইল যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আঙ্কারা। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে ধ্বংস করার জন্য ইসরাইল প্রশাসনের চেষ্টা আমরা নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধখেকো ইসরাইল সরকারকে আমাদের এই ভূখণ্ডকে আবারও বারুদ ও রক্তের গন্ধে ডুবিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।’
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বারবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি দুর্বল করার জন্য ইসরাইলকে অভিযুক্ত করে আসছেন। পাশাপাশি গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানেরও ধারাবাহিক নিন্দা জানিয়ে আসছেন তিনি।
কাতারে পরোক্ষ আলোচনা ও চুক্তির শর্ত
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পালটাপালটি সামরিক হামলার পর কাতারে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনার পরপরই এরদোগানের এই মন্তব্য সামনে এল। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের যেকোনো লঙ্ঘন সম্পর্কে জানাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ স্থাপন করবে তেহরান।
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা স্মারকে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি মূল প্রতিশ্রুতির রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তিতে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি
- হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া
- ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো
- সংঘাতের স্থায়ী অবসানে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সীমা নির্ধারণ
তবে এই সমঝোতা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। চুক্তির ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কের পাশাপাশি গত সপ্তাহে উভয় দেশই একে অপরের ওপর পালটা হামলা চালিয়েছে। এতে চুক্তিটির স্থায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।



