ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি: নিজের নামে মেক্সিকো উপসাগরের নামকরণের পরিকল্পনা ছিল
ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি: মেক্সিকো উপসাগরের নামকরণের পরিকল্পনা

ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি: নিজের নামে মেক্সিকো উপসাগরের নামকরণের পরিকল্পনা ছিল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি একটি মজাদার তথ্য প্রকাশ করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন যে, তিনি একসময় মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে 'গালফ অব ট্রাম্প' রাখার কথা ভেবেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন তিনি।

নামকরণের পেছনের কারণ

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে উপসাগরটির নাম 'গালফ অব আমেরিকা' রাখার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এখন এর নাম গালফ অব আমেরিকা—আমার কারণেই। ছোটখাটো কাজগুলোর একটি ছিল এটি।' তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, 'আমাদের যখন ৯৩ শতাংশ উপকূল রয়েছে, তখন এটিকে কেন গালফ অব মেক্সিকো বলা হবে?'

কেন সরে এলেন ট্রাম্প?

নামকরণের ধারণা কীভাবে এসেছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প স্বীকার করেন, এক পর্যায়ে তিনি নিজের নামেই এর নামকরণের কথা ভেবেছিলেন। তিনি বলেন, 'আমি একসময় ভাবছিলাম এটিকে 'গালফ অব ট্রাম্প' বলব, কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্ত নেইনি।' তিনি আরও যোগ করেন, 'ভাবলাম, বিষয়টি হয়তো ভালোভাবে নেওয়া হবে না।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাস্তবতা কী বলে?

মজার বিষয় হলো, বাস্তব তথ্য ট্রাম্পের দাবির সাথে মেলে না। মেক্সিকো উপসাগরের উপকূলের প্রায় ৪৬ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, যা ট্রাম্পের উল্লেখিত ৯৩ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। এই পরিসংখ্যানটি নামকরণের যুক্তিকে কিছুটা দুর্বল করে তোলে।

ট্রাম্পের নামকরণের ইতিহাস

এর আগেও ট্রাম্প বিভিন্ন সময় জনপরিসর ও প্রতিষ্ঠানের নাম নিজের নামে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িতও হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • গত আগস্টে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, অনেকে ইতোমধ্যে কেনেডি সেন্টারকে 'ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার' বলে ডাকছেন—যা ডিসেম্বরের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়।
  • তার প্রশাসন 'ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস'-এর নামও তার নামে পরিবর্তন করে।

এই ঘটনাগুলো ট্রাম্পের নামকরণের প্রতি আগ্রহেরই প্রতিফলন। তবে মেক্সিকো উপসাগরের ক্ষেত্রে তিনি শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন, যা তার রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তারই পরিচয় দিচ্ছে।