২০২৮ সালের মার্কিন নির্বাচনে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেন কমলা হ্যারিস
২০২৮ সালের মার্কিন নির্বাচনে লড়াইয়ের ইঙ্গিত কমলা হ্যারিসের

২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াইয়ের ইঙ্গিত কমলা হ্যারিসের

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার নাগরিক অধিকার সংস্থা ন্যাশনাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের বার্ষিক সম্মেলনে নাগরিক অধিকার নেতা আল শার্পটনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সম্ভাবনার কথা জানান। শার্পটন সরাসরি কমলা হ্যারিসকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি ২০২৮ সালে আবার নির্বাচন করবেন?’ সম্মেলনে উপস্থিত জনতা তখন ‘আবার লড়ুন, আবার লড়ুন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রত্যক্ষ প্রতিশ্রুতি না দিলেও আশার আলো

প্রশ্নের জবাবে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি না দিলেও কমলা হ্যারিস বলেন, ‘শুনুন, আমি লড়তে পারি, আমি লড়তে পারি। বিষয়টি নিয়ে আমি ভাবছি।’ সাবেক এই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি চার বছর প্রেসিডেন্টের খুব কাছাকাছি থেকে দায়িত্ব পালন করেছি। ওভাল অফিসের মাত্র কয়েক ধাপ দূরে ওয়েস্ট উইংয়ে আমার অফিস ছিল। আমি ওভাল অফিস ও সিচুয়েশন রুমে অসংখ্য ঘণ্টা কাটিয়েছি। আমি জানি, এই কাজ আসলে কী এবং এর জন্য কী প্রয়োজন।’

২০২৪ সালের নির্বাচনের পটভূমি

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও দক্ষিণ এশীয় নারী হিসেবে প্রধান কোনো দলের পক্ষে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পেয়েছিলেন কমলা হ্যারিস। তবে তাঁর মনোনয়ন পাওয়ার পটভূমি ছিল ভিন্ন। ২০২৪ সালের প্রথম প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে জড়িয়ে ৮১ বছর বয়সী জো বাইডেনের নাজুক পারফরম্যান্সের পর তাঁকে সরে দাঁড়াতে দলের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়। জুলাইয়ের শেষে বাইডেন সরে দাঁড়িয়ে কমলাকে সমর্থন দেন। কমলা যখন মনোনয়ন পান, তখন নির্বাচনের মাত্র চার মাস বাকি ছিল। সেই নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩১২টি ইলেকটোরাল ভোটে বড় জয় পান, যেখানে কমলার ঝুড়িতে ছিল ২২৬টি ভোট। তবে পপুলার ভোটে ব্যবধান ছিল সামান্য—ট্রাম্প পান ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং কমলা পান ৪৮ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সম্মেলনে অন্যান্য প্রসঙ্গ

ন্যাশনাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের সম্মেলনে আল শার্পটন কমলা হ্যারিসকে একজন লড়াকু যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি সতর্কবার্তাও দেন। শার্পটন বলেন, ‘আমরা বিপদে আছি। আমাদের উচিত ছিল আরও বিপুল সংখ্যায় ভোট দিয়ে তাঁকে (কমলা) বিজয়ী করা।’ শার্পটন আরও বলেন, কমলা হ্যারিস ৭ কোটি ৫০ লাখের বেশি ভোট পেয়েছেন, যা বারাক ওবামা বা বিল ক্লিনটনের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে বেশি। ন্যাশনাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের এই সম্মেলনে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য আরও কয়েকজন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেবি প্রিৎজকার, পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো ও সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিগেগ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিজ ও আইয়ানা প্রেসলিও সেখানে ছিলেন।

ট্রাম্পের সমালোচনা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

সম্মেলনে কমলা হ্যারিস ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির কড়া সমালোচনা করেন। ইরান ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে তিনি ট্রাম্পের ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র তার বন্ধুদের কাছে একজন অনির্ভরযোগ্য অংশীদার হয়ে উঠছে এবং বিশ্বজুড়ে নিজের প্রভাব হারাচ্ছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ট্রাম্পের মেয়াদের পরও দীর্ঘ সময় লাগবে।’ চলতি বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না থাকলেও আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায় ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা চাইছেন অন্তত একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে। এই নির্বাচনকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রহস্যময় সমাপ্তি

২০২৮ সালে নির্বাচনে লড়ার বিষয়ে কমলা হ্যারিস শেষ পর্যন্ত একটি রহস্য জিইয়ে রাখেন। তিনি বলেন, ‘এই পরিপ্রেক্ষিতে আমি ভাবছি যে কে, কোথায় ও কীভাবে মার্কিন জনগণের জন্য সেরা কাজটি করতে পারবে? আমি আপনাদের পরে বিষয়টি জানাব।’ এই মন্তব্যে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা মার্কিন রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করছে।