মেলানিয়া ট্রাম্পের দৃঢ় অবস্থান: এপস্টাইন কেলেঙ্কারি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ক্যামেরার সামনে দেওয়া এক বিরল ও আকস্মিক বিবৃতিতে তিনি এই অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
সম্মানহানির অভিযোগ ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদ
৫৫ বছর বয়সী এই সাবেক মডেল দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে স্পষ্ট করে বলেন, এপস্টাইনের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে যেসব কথা প্রচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং তার সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যেই এসব করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, 'যারা আমাকে নিয়ে মিথ্যা ছড়াচ্ছে তাদের নৈতিক মানদণ্ড বা শ্রদ্ধাবোধ নেই।'
মেলানিয়া ট্রাম্প তার বক্তব্যে আরও জানান, তিনি এপস্টাইনের লালসার শিকার হননি এবং এই কুখ্যাত অর্থদাতার মাধ্যমেই তার স্বামী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে—এমন তথ্যও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, এপস্টাইনের সঙ্গে তার পরিচয়ের অন্তত দুই বছর আগেই স্বাধীনভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল।
ভুয়া ছবি ও বিবৃতির বিরুদ্ধে সতর্কতা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এপস্টাইনের সঙ্গে তার যেসব ছবি বা বিবৃতি প্রচার করা হচ্ছে সেগুলোকে 'ভুয়া' হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। মেলানিয়া স্পষ্ট করেন, তিনি কখনো এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বিমানে চড়েননি কিংবা তার মালিকানাধীন ব্যক্তিগত দ্বীপেও যাননি।
এপস্টাইনের হাতে নির্যাতিত হওয়া ভিকটিমদের বিষয়ে তার কোনো পূর্বজ্ঞান ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান যেন এপস্টাইনের হাতে নির্যাতিতদের জন্য একটি গণশুনানির আয়োজন করা হয়, যেখানে তারা শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ
এর আগে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে ডোনাল্ড ও মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টাইন ও তার সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের একটি ছবি প্রকাশিত হলেও ফার্স্ট লেডি জানিয়েছেন, সেটি কোনো গভীর সম্পর্কের প্রমাণ বহন করে না। হঠাৎ করে মেলানিয়ার এই আত্মপক্ষ সমর্থনের কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে।
দুই দিন আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন, যা নিয়ে দেশে-বিদেশে তীব্র আলোচনা চলছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এপস্টাইন কেলেঙ্কারিকে পুনরায় পাদপ্রদীপে নিয়ে আসায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে সাধারণত মেলানিয়া ট্রাম্পের উপস্থিতি ও বক্তব্য বেশ রহস্যময় ও বিরল হয়ে থাকে। এর আগে গত সোমবার ইস্টার এগরোল অনুষ্ঠানে তাকে শেষবার জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। বর্তমান উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে তার এই ব্যক্তিগত স্পষ্টীকরণ মার্কিন রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় নেয় কি না, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকরা তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।
২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে বিচার চলাকালীন এপস্টাইন কারাগারে মারা গেলেও তার ছায়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্সিতে বারবার ফিরে আসছে। মেলানিয়া ট্রাম্পের এই দৃঢ় বিবৃতি এপস্টাইন কেলেঙ্কারির সঙ্গে তার নাম জড়ানো থেকে মুক্তির একটি স্পষ্ট প্রচেষ্টা বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



