এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে মেলানিয়া ট্রাম্পের স্পষ্ট অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বিতর্কিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেন।
মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা
মেলানিয়া ট্রাম্প তার বিবৃতিতে বলেন, 'জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে যে মিথ্যাচার করা হচ্ছে, তার আজই অবসান ঘটাতে হবে।' তিনি বিশেষভাবে সেই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেন যেখানে বলা হচ্ছিল যে এপস্টেইন তাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
ফার্স্ট লেডি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে তিনি এপস্টেইনের কোনো ভুক্তভোগী নন। বিবৃতি পাঠানোর পর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতেও অস্বীকৃতি জানান, যা এই ইস্যুটির প্রতি তার দৃঢ় মনোভাবেরই ইঙ্গিত বহন করে।
আবারও আলোচনায় এপস্টেইন মামলা
মেলানিয়া ট্রাম্পের এই বক্তব্য বিতর্কিত এপস্টেইন মামলাকে আবারও সংবাদ শিরোনামে নিয়ে এসেছে। এই মামলাটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে তারা সরকারি নথি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অপব্যবহার করছে এই মামলা সম্পর্কিত বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়ার জন্য।
গত সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে বরখাস্ত করেছেন। বন্ডি ট্রাম্পের অনুগতদের বিশেষ রোষের শিকার হয়েছিলেন, মূলত এপস্টেইন মামলা সম্পর্কিত লক্ষ লক্ষ নথি প্রকাশে বিচার বিভাগের গড়িমসির কারণে।
কেন এখন মুখ খুললেন মেলানিয়া?
যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক ইস্যুগুলো সংবাদ শিরোনাম দখল করে নিয়েছে, তখন মেলানিয়া ট্রাম্প বৃহস্পতিবার কেন এই বিষয়ে মুখ খুললেন, তা সরাসরি ব্যাখ্যা করেননি। তবে তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক বেকম্যান রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন:
- 'ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এখন মুখ খুলেছেন কারণ আর সহ্য করা যায় না।'
- 'এই মিথ্যাচার অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।'
বেকম্যানের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগ ও গুজবের বিরুদ্ধে মেলানিয়া ট্রাম্পের ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে গেছে।
ট্রাম্প পরিবারের জন্য চ্যালেঞ্জ
এপস্টেইন কেলেঙ্কারি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প পরিবারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও বারবার এই মামলা সম্পর্কিত বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মেলানিয়া ট্রাম্পের এই স্পষ্ট বক্তব্য হয়তো পরিবারের পক্ষ থেকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে তারা এই ইস্যুতে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে চাইছেন।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ এপস্টেইন মামলা কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগে একটি আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারিতে পরিণত হয়েছে। মেলানিয়া ট্রাম্পের এই অস্বীকার হয়তো এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে, বিশেষ করে যখন ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ দিনগুলোতে এই মামলা নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি উঠছে।



