হোয়াইট হাউসের ভূগর্ভস্থ বাংকার ও বলরুম প্রকল্প: ট্রাম্পের নিরাপত্তা যুক্তি ও আইনি বাধা
হোয়াইট হাউসের ভূগর্ভস্থ বাংকার: ট্রাম্পের নিরাপত্তা প্রকল্প

হোয়াইট হাউসের ভূগর্ভস্থ বাংকার: ট্রাম্পের নিরাপত্তা প্রকল্প ও আইনি সংঘাত

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ে চলমান নির্মাণকাজ নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে একটি গোপন ভূগর্ভস্থ স্থাপনার কথা উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত এই বাংকারটি জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সুরক্ষায় ব্যবহৃত হতো। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা ও ২০২০ সালের বিক্ষোভের সময় ট্রাম্পসহ পূর্ববর্তী নেতারাও এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

বলরুম প্রকল্পের পেছনের যুক্তি

ট্রাম্প ৪০ কোটি ডলার ব্যয়ে ৯০ হাজার বর্গফুটের একটি বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন, যা ভূগর্ভস্থ বাংকারের জন্য একটি আচ্ছাদন হিসেবে কাজ করবে। তিনি দাবি করেন, এই প্রকল্পটি সামরিক বাহিনীর চাহিদা এবং নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলরুমটিতে বুলেটপ্রুফ গ্লাস থাকবে, যা ড্রোন ও গুলির হামলা থেকে ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে রক্ষা করবে।

ভূগর্ভস্থ অংশে বোমার আঘাত প্রতিরোধক আশ্রয়স্থল, একটি হাসপাতাল, গোপন যোগাযোগব্যবস্থা ও জৈব অস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ট্রাম্পের মতে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকল্পটিকে আরও জরুরি করে তুলেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনি চ্যালেঞ্জ ও স্থগিতাদেশ

ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক রিচার্ড জে লিওন কংগ্রেসের অনুমোদনের অভাবে প্রকল্পটির কাজ স্থগিত করার আদেশ দিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, “হোয়াইট হাউসের পাশের বিশাল গর্ত ট্রাম্পের নিজের সৃষ্ট সমস্যা।” তবে ট্রাম্প এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের নির্দেশ দিয়েছেন এবং যুক্তি দেখিয়েছেন যে নিরাপত্তা কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সিক্রেট সার্ভিসের ভূমিকা

সিক্রেট সার্ভিসের উপপরিচালক ম্যাথিউ সি কুইন আদালতে নথি জমা দিয়ে বলরুম প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে কাজ বন্ধ করলে জীবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং নিরাপত্তা মিশন বাধাগ্রস্ত হবে। তবে বিচারক লিওন এই যুক্তিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে মনে হচ্ছে।

প্রকল্পের গোপনীয়তা বজায় রাখতে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা ও নির্মাণ খরচ সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো অস্পষ্ট।

ট্রাম্পের এই উদ্যোগ হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা আধুনিকায়নের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কিন্তু আইনি ও প্রশাসনিক বাধা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে রেখেছে।