ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের হুমকি ও ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার এবং দেশটির প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন। গত বুধবার হোয়াইট হাউসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম টেলিভিশন ভাষণে তিনি এই হুমকি দেন। তবে এক মাস ধরে চলা এই ব্যয়বহুল যুদ্ধের ইতি কবে টানা হবে, তা নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
ডেমোক্র্যাট নেতাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতিবিদেরা। ডেমোক্র্যাট নেতারা বলেছেন, ইরানকে হুমকি দিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া ভাষণ নিন্দনীয়, ভয়াবহ ও অশুভ মানসিকতার প্রকাশ। মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'ইরান নিয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপ আমাদের দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নীতিগত ভুলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে। ট্রাম্প লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যর্থ হচ্ছেন, মিত্রদের দূরে ঠেলে দিচ্ছেন এবং সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো উপেক্ষা করছেন।'
জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। হামলার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এই জলপথ বন্ধ হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে চলেছে। ট্রাম্পের ভাষণের পর জ্বালানির দাম প্রতি ব্যারেলে পাঁচ ডলার বেড়েছে, এবং গতকাল এটি ১০৮ থেকে ১০৯ ডলারে বিক্রি হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন নাগরিকদের জীবনেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
ট্রাম্পের সময়সীমা ও হুমকি
যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি চুক্তিতে রাজি হতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পর্যন্ত ইরানকে তিনবার সময়সীমা দিয়েছেন। সর্বশেষ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানকে সময় দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। বুধবারের ভাষণে তিনি আবারও একই হুমকি দেন, বলেছেন, 'আগামী দু–তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের (ইরানকে) সেই প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।'
আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধাপরাধের সম্ভাবনা
বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ, এবং এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ট্রাম্পের এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেসওম্যান ইয়াসমিন আনসারি এক্সে লিখেছেন, '৯ কোটি মানুষের একটি দেশকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার ট্রাম্পের হুমকি নিন্দনীয়, ভয়াবহ ও অশুভ মানসিকতার প্রকাশ।' এছাড়া, কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) ট্রাম্পের মন্তব্যকে 'মুসলিমবিদ্বেষী, বর্ণবাদী ও অমানবিক' বলে মন্তব্য করেছে এবং যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তি
ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ক্রিস ভ্যান লিখেছেন, 'ট্রাম্প দুই সপ্তাহ আগে দাবি করেছিলেন, “আমরা জয়ী হয়েছি।” তখন তিনি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিথ্যা বলেছিলেন। এই বিভ্রান্ত মানুষটি আমাদের দেশ এবং বিশ্বের জন্য এক চরম বিপদ।' কংগ্রেসম্যান জিম হাইমস জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে লিখেন, 'ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে পাঁচ ডলার বেড়ে গেছে।' এদিকে, কংগ্রেস সদস্য লয়েড ডগেট বলেছেন, ট্রাম্পের ভাষণ থেকে 'সবচেয়ে বড় মিথ্যাটি' বেছে নেওয়া কঠিন, তবে যুক্তরাষ্ট্রে 'কোনো মুদ্রাস্ফীতি নেই' বলে তার দাবি সম্ভবত সবচেয়ে বড় মিথ্যা হিসেবে বিবেচিত হবে।



