এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: যুক্তরাষ্ট্রে ক্লিনটন দম্পতির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের তদন্তে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। সম্প্রতি এপস্টেইনের মামলার ৩০ লক্ষাধিক নথি প্রকাশের পর বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় ক্লিনটন দম্পতি তদন্তের মুখে পড়েছেন।
সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া ও সময়সূচি
সাক্ষ্যগ্রহণ নিউ ইয়র্কের চ্যাপাকুয়ায় ক্লিনটন দম্পতির বাড়ির কাছে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হিলারি ক্লিনটন স্থানীয় সময় ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য দিচ্ছেন, এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিল ক্লিনটন সাক্ষ্য দেবেন। উভয় অধিবেশন রুদ্ধদ্বার হলেও রেকর্ড ও প্রতিলিপি করা হবে। সাধারণত এ ধরনের সাক্ষ্যগ্রহণ সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে শুরু হয়, তবে কমিটি নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত করেনি।
কংগ্রেসনাল ডিপজিশন কী?
মার্কিন কংগ্রেসনাল তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের বাইরে শপথপূর্বক দেওয়া সাক্ষ্যগ্রহণই কংগ্রেসনাল ডিপজিশন। সাক্ষীরা শপথ নিয়ে রুদ্ধদ্বার কক্ষে কমিটির আইনজীবী ও তদন্তকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেন। জেনে বুঝে মিথ্যা বিবৃতি দিলে আইনি পরিণতির সম্ভাবনা থাকে।
ক্লিনটন দম্পতির আপত্তি ও সমঝোতা
ক্লিনটন দম্পতি শুরুতে সাক্ষ্য দিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন, যুক্তি দিয়েছিলেন যে তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে হাউস যখন তাদের বিরুদ্ধে 'কন্টেম্পট' বা অবমাননার জন্য ভোটের প্রস্তুতি নেয়, তখন তারা হাজির হতে রাজি হন। হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার বলেন, "কেউ ক্লিনটন দম্পতির কোনো অন্যায়ের জন্য অভিযুক্ত করছে না। আমাদের কাছে শুধু অনেকগুলো প্রশ্ন আছে। সেগুলোর উত্তর দরকার।"
বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য প্রথমে ২০২৫ সালের অক্টোবরে চাওয়া হয়েছিল, পরে ডিসেম্বরে পুনঃনির্ধারিত হয়। তিনি একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অজুহাতে হাজির হতে অস্বীকার করেন। হিলারি ক্লিনটনের সাক্ষ্যও একাধিকবার পিছিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে তারা সাক্ষ্য দিতে রাজি হন এবং দাবি করেন যে এটি জনসমক্ষে হওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে তাদের লুকানোর কিছু নেই।
অতীতের প্রেক্ষাপট
ঘটনাটি প্রায় তিন দশক আগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে, যখন বিল ক্লিনটন পউলা জোনসের যৌন হয়রানির মামলায় ভিডিও সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালের সেই সাক্ষ্যে তাকে মনিকা লিউইনস্কির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল, যা পরে মিথ্যা সাক্ষ্যের অভিযোগে অভিশংসনের দিকে নিয়ে যায়।
হাউস ওভারসাইট কমিটির তদন্ত
কমিটি প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী এপস্টেইন ও তার সহযোগীদের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। এপস্টেইন ছিলেন একজন মার্কিন অর্থদাতা, যিনি তার সম্পদ ও সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহার করে কয়েক ডজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে জড়িত একটি সেক্স ট্রাফিকিং রিং পরিচালনা করতেন। এই তদন্তে তার সঙ্গে ক্লিনটন দম্পতির সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
