যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস চেম্বার থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ প্রদান করেছেন। মার্কিন কংগ্রেসের সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের যৌথ অধিবেশনে এই গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি অভিবাসন, অর্থনীতি, অপরাধ হ্রাস ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নানা দাবি ও অভিযোগ উপস্থাপন করেন।
অভিবাসন, অর্থনীতি ও অপরাধ হ্রাসের দাবি
ভাষণের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত বন্ধ রাখা, অর্থনীতির অগ্রগতি ও অপরাধের হার কমার বিষয় জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, মূল্যস্ফীতি কমছে এবং আয় দ্রুত বাড়ছে, যা অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা অপরাধ হ্রাসের দাবি নিয়ে সতর্ক করেছেন, উল্লেখ করে যে কোভিড মহামারির পর থেকে অপরাধের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা জটিল পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশ ও বাণিজ্য শুল্ক
ট্রাম্প তাঁর বাণিজ্য শুল্ক নীতির বড় অংশকে অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক আদেশকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, অন্য আইনি পথে এই শুল্ক বহাল রাখা হবে, যার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা ও আলোচনা চলছে।
ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল ও আন্তর্জাতিক ইস্যু
ভাষণে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা থেকে ৮ কোটি ব্যারেলের বেশি জ্বালানি তেল পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন, যা দেশটির সাথে নতুন অংশীদারিত্বের ফল বলে দাবি করেন। এছাড়া, তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর আটটি যুদ্ধ থামানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন, যার মধ্যে গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেন, যদিও তাঁর দূতের বক্তব্যের সাথে এটি বৈপরীত্য দেখায়।
এআই তথ্যভান্ডার ও প্রযুক্তি নীতি
প্রযুক্তি খাতের বিষয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে বড় এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর বাধ্যবাধকতা থাকবে। তিনি বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে নিজেদের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যা পরিবেশ ও শক্তি নীতির দিকে ইঙ্গিত করে।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই ভাষণে তাঁর প্রশাসনের অগ্রাধিকার ও সাফল্যের দাবি উঠে এসেছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা অনেক বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
