মহাকাশের রহস্য উন্মোচনে ট্রাম্পের নির্দেশ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মহাকাশ থেকে আসা এলিয়েন বা ভিনগ্রহবাসী এবং অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু বা ইউএফও সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশের জন্য সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ অত্যন্ত উচ্চমাত্রায় রয়েছে, যা সরকারি তথ্য প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
ওবামার মন্তব্য নিয়ে ট্রাম্পের তির্যক প্রতিক্রিয়া
এই ঘোষণার পাশাপাশি, ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে নিয়ে একটি মজার মন্তব্য করেছেন। ওবামা আগে বলেছিলেন যে এলিয়েন সত্যিই আছে, কিন্তু তিনি তাদের কখনও দেখেননি। ট্রাম্প এটিকে উল্লেখ করে দাবি করেন, 'ওবামা এলিয়েন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন, যা সঠিক পদ্ধতি নয়।' তিনি ওবামার এই পদক্ষেপকে সমালোচনার দৃষ্টিতে দেখেছেন।
পেন্টাগনের প্রতিবেদন ও এরিয়া ৫১-এর বাস্তবতা
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন পূর্ববর্তী এক প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এলিয়েনের অস্তিত্বের কোনও প্রমাণ তারা পায়নি। ২০২২ সালে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে করা সমস্ত তদন্তে এলিয়েন প্রযুক্তির কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ ইউএফও ঘটনা আসলে সাধারণ বস্তুকে ভুল করে দেখা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও, ওবামা ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন যে, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি এলিয়েনের সঙ্গে যোগাযোগের কোনও প্রমাণ পাননি। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, মহাকাশ এত বিশাল যে অন্য কোথাও প্রাণ থাকতে পারে, কিন্তু পৃথিবীতে তাদের আসার সম্ভাবনা খুবই কম। এরিয়া ৫১, যা নেভাদা মরুভূমিতে অবস্থিত একটি গোপন বিমানঘাঁটি, সেখানে এলিয়েন লুকিয়ে রাখার ধারণাকে সরকারি নথি খণ্ডন করেছে, বলেছে এটি গোপন উড়োজাহাজ পরীক্ষার স্থান ছিল।
ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
ট্রাম্প নিজেও পরে স্বীকার করেছেন যে, এলিয়েন আসলেই আছে কি না, সেটা তিনি নিজেও জানেন না। তবে তিনি প্রতিরক্ষা দফতর ও অন্যান্য সংস্থাকে এসব নথি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন, বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মজার বলে উল্লেখ করে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবরটি নিশ্চিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
