যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুক হামলা: দুই নিহত, ক্যাম্পাসে লকডাউন
যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুক হামলা, নিহত ২

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বন্দুক হামলা: দুই শিক্ষার্থী নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি ছাত্রাবাসে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ৯টা ১৫ মিনিটে এ হামলায় দুজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে দ্রুত লকডাউন জারি করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

ছাত্রাবাস কমপ্লেক্সে গুলিবর্ষণের ঘটনা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হিউজেইন স্যুটস ছাত্রাবাস কমপ্লেক্সের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। হামলার পরপরই ক্যাম্পাসজুড়ে জরুরি লকডাউন ঘোষণা করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো নিহতদের পরিচয় বা আহত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

হামলাকারী সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য নেই: বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারী কেউ এখনো পলাতক আছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জননিরাপত্তা দপ্তরের ফোনলাইনে দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই।

ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়

সাউথ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটি একটি ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য প্রতিষ্ঠিত কলেজ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। এটি অরেঞ্জবার্গ শহরের ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য প্রতিষ্ঠিত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি। নদীতীরবর্তী এ কলেজশহরটি অঙ্গরাজ্যের রাজধানী কলম্বিয়া থেকে প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি হলো ক্লাফলিন বিশ্ববিদ্যালয়।

তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা গুলির ঘটনার তদন্তের জন্য সাউথ ক্যারোলিনা রাজ্য আইন প্রয়োগকারী বিভাগকে দায়িত্ব দিয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে গতকাল সব ক্লাস বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্দুক সহিংসতার উদ্বেগজনক প্রবণতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।