যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যেসব মার্কিন নাগরিক সন্তানের ভরণপোষণের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বকেয়া রেখেছেন, তাদের পাসপোর্ট বাতিল করা শুরু হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শিশুদের প্রতি আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব কার্যকর করা হবে বলে দপ্তরটি জানিয়েছে।
বকেয়া অর্থের পরিমাণ
পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, যেসব অভিভাবকের সন্তানের ভরণপোষণের খরচ বাবদ দুই হাজার ৫০০ ডলারের বেশি বকেয়া রয়েছে, তারা এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন। তবে মূলত ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ’ বকেয়া থাকা ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখা হবে।
আইনি প্রক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুসারে, আদালতের নির্দেশে একজন অভিভাবক (সাধারণত যার কাছে সন্তান থাকে না) অন্য অভিভাবককে (যার কাছে সন্তান থাকে) সন্তানের মৌলিক খরচ বাবদ নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ প্রদান করেন। এই অর্থ সন্তানের মৌলিক চাহিদা যেমন খাবার, পোশাক, বাসস্থান, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার জন্য ব্যবহৃত হয়।
পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য
পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, তারা মার্কিন আইন মেনে চলা জোরদার করতে এবং মার্কিন পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে 'বাস্তবভিত্তিক উপায়' ব্যবহার করছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি 'আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব' কার্যকর করা হবে।
পাসপোর্ট বাতিলের প্রক্রিয়া
যাদের এ ধরনের বকেয়া রয়েছে, তাদের পাসপোর্ট বাতিল এড়াতে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সংস্থাগুলোর সঙ্গে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো পাসপোর্ট একবার বাতিল হয়ে গেলে, সেটি আর ভ্রমণের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। যাদের পাসপোর্ট বাতিল করা হবে, তারা সন্তানের ভরণপোষণের বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য হবেন না।
শিশু কল্যাণে পদক্ষেপ
পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, 'বিদ্যমান ফেডারেল আইনের অধীনে সন্তানদের ভরণপোষণে অবহেলার জন্য প্রকৃত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই পদক্ষেপটি আমেরিকান শিশুদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।' এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের শিশু কল্যাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



