যুক্তরাজ্যের কেন্টের রামসগেট শহরের মেয়র নির্বাচনে আবারও ইতিহাস গড়লেন পিরোজপুরের পুত্রবধূ রৌশন আরা দোলন। বুধবার (৬ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত কাউন্সিলরদের বার্ষিক সভায় ৯৯ শতাংশ সমর্থন পেয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
পিরোজপুরের পুত্রবধূর সাফল্য
রৌশন আরা দোলন পিরোজপুর পৌর শহরের সিআইপাড়া এলাকার ইংল্যান্ড প্রবাসী ব্যবসায়ী রেজাউর রহমান জামানের স্ত্রী। তিনি রামসগেট শহরের প্রথম বাঙালি ও প্রথম এশীয় নারী মেয়র হিসেবে আগেই ইতিহাস গড়েছিলেন।
প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় রৌশন আরা দোলন বলেন, এই দায়িত্ব তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের ও গৌরবের। তিনি ওই শহরের স্বেচ্ছাসেবক, সংগঠক, দাতব্য সংস্থা ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও রামসগেটকে আরও বাসযোগ্য ও সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড
জানা গেছে, ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো রামসগেটের মেয়র নির্বাচিত হন দোলন। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে তিনি এই পদে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি শহরবাসীর আস্থা অর্জন করেন। গৃহহীনদের আবাসনের ব্যবস্থা, করোনাকালে মানবিক সহায়তা এবং শহরের পরিচ্ছন্নতা উন্নয়নে তার ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার
ব্যক্তিগত জীবনে রৌশন আরা দোলন ১৯৭৮ সালে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন। ২০১৭ সালে তিনি লেবার পার্টির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনও করেছিলেন।
স্বামী রেজাউর রহমান জামান পিরোজপুর শহরের সিআইপাড়া এলাকার প্রয়াত আফসার উদ্দিনের ছেলে। তাদের আদি নিবাস ভাণ্ডারিয়া উপজেলার পূর্ব ভাণ্ডারিয়া গ্রামে। রৌশন আরা দোলনের পৈতৃক বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের কাশেমপুর গ্রামে। তার বাবা রজ্জব আলী একজন প্রকৌশলী।
দম্পতির ‘রামসগেট তান্দুরি’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা রয়েছে। ব্যক্তি জীবনে তিনি দুই পুত্রের জননী। বড় ছেলে রাইভী শামস রহমান যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর এডুকেশনে আইন উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত এবং ছোট ছেলে জুনায়েদ রহমান কলেজে অধ্যয়নরত।
বিদেশের মাটিতে সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় রৌশন আরা দোলন পিরোজপুরসহ দেশের মানুষের জন্য গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।



