তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বুধবার গভীর রাতে নাটকীয় মোড় নিয়েছে সরকার গঠনের সমীকরণ। বিধানসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। আর সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে ও এআইএডিএমকের মধ্যে জোট গঠনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
দুই দ্রাবিড় দলের সম্ভাব্য জোট
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজয় সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে বিকল্প সমীকরণ তৈরির লক্ষ্যে ব্যাকচ্যানেলে আলোচনা শুরু করেছে দুই দ্রাবিড় দল। সূত্রের দাবি, এআইএডিএমকে সরকার গঠন করলে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে ডিএমকে। একই সঙ্গে ছোট দলগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টাও চলছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই এ বিষয়ে মুখ খোলেনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের সম্ভাব্য সমঝোতা একেবারেই নজিরবিহীন। কয়েক দশক ধরে দুই দলই রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত।
আসন সংখ্যা ও সমীকরণ
নির্বাচনে ডিএমকে পেয়েছে ৫৯টি আসন এবং এআইএডিএমকে ৪৭টি। ফলে দুই দলের সম্মিলিত আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৬, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের চেয়ে কম। তাই ছোট দলগুলোর সমর্থন ছাড়া এই সমীকরণেও সরকার গঠন সম্ভব নয়।
এদিকে বুধবার গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানান বিজয়। তবে তিনি ১১২ জন বিধায়কের সমর্থনের তালিকা জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। গভর্নর তাকে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রমাণ নিয়ে আবার আসতে বলেছেন।
কংগ্রেস ইতোমধ্যে টিভিকেকে সমর্থনের ঘোষণা দিলেও সেটি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্রে রূপ নেয়নি বলেও বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
টিভিকের অবস্থান ও প্রয়োজনীয় সমর্থন
২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় প্রথমবার অংশ নিয়েই ১০৮টি আসনে জয় পেয়েছে টিভিকে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য এখনও অন্তত ১০টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন তাদের।
এই পরিস্থিতিতে ছোট দলগুলো এখন ‘কিংমেকার’ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ভিসিকে, সিপিআই ও সিপিএমের অবস্থানের দিকে নজর রয়েছে সব পক্ষের। তবে বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছে ভিসিকে। অন্যদিকে সিপিআই ও সিপিএমও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়কে সমর্থনের ঘোষণা দেয়নি।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ডিএমকে নেতৃত্ব বিশ্বাস করে তাদের জোটসঙ্গী বাম দল ও ভিসিকে শেষ পর্যন্ত শিবির বদল করবে না।
বিজয়ের পথে বাধা
এদিকে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) এবং বাম দলগুলোর অনীহা বিজয়ের সরকার গঠনের পথ আরও কঠিন করে তুলেছে। কংগ্রেসের সমর্থনের পরও পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্ন—‘যদি বিজয় সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে কী হবে?’
এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চলছে তীব্র দরকষাকষি ও জোট-আলোচনা।
এআইএডিএমকের প্রস্তুতি
সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় এআইএডিএমকে তাদের প্রায় ৫০ জন বিধায়ককে পুদুচেরির একটি রিসর্টে নিয়ে গেছে। বিভিন্ন মহলের ধারণা, বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হলে এআইএডিএমকে সরকার গঠনের দাবি জানাতে পারে এবং তখন বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে ডিএমকে। সেই সম্ভাব্য সমীকরণে ছোট দলগুলোকেও যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তামিলনাড়ুর রাজনীতি এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পুরো ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যেতে পারে।



