যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) গ্রামের বাড়িতে চলছে মাতম। তার বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা এলাকায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, বর্তমানে লিমনের পরিবারের কেউ গ্রামের বাড়িতে স্থায়ীভাবে না থাকলেও তার চাচা-চাচীসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনরা সেখানে বসবাস করেন।
শৈশব ও শিক্ষাজীবন
লিমনের শৈশব কেটেছে গাজীপুরের মাওনা এলাকায়। সেখানে তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন। ২০১৪ সালে গাজীপুরের মাওনা মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা
উচ্চশিক্ষার জন্য এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যান লিমন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পিএইচডি করার জন্য ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ভূগোল, পরিবেশ ও নীতি বিভাগে ভর্তি হন। অন্যদিকে, তার বন্ধু নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন।
নিখোঁজ ও মৃত্যু
১৬ এপ্রিল সকাল থেকে নিখোঁজ হন লিমন ও নাহিদা। শুক্রবার সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাতে পরিবারের সদস্যরা লিমনের মৃত্যুর সংবাদ পান।
পরিবারের দাবি
লিমনের ফুফু আকলিমা আক্তার বলেন, ‘কয়েকদিন শুধু নিখোঁজের খবর পেয়েছি। গত রাতে হঠাৎ লিমনের মৃত্যু সংবাদ পেয়েছি। আমার ভাতিজার মরদেহ যেন খুব দ্রুত দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আর লিমনকে যারা হত্যা করেছে তাদের সঠিক বিচার চাই।’
লিমনের চাচা জিয়াউল ইসলাম জানান, লিমনের বাবা জহুরুল হক ১৯৯৪ সালে পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে তারা ঢাকাতেই বসবাস করছেন। মাঝে মাঝে তারা গ্রামের বাড়িতে আসতেন।



