ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। স্থানীয় সময় বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাতভর চালানো এ হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন।
মেয়রের ভাষ্য ও হামলার মাত্রা
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো একে রাজধানীর ওপর চালানো ‘সবচেয়ে বড় হামলা’ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও এর আগে আরও প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে, তবে এবারের হামলায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আঘাত হানা হয়েছে।
আহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, হামলায় ৯১ জন আহত হয়েছেন। মেয়র ক্লিচকোর ভাষ্য, একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার পূর্বাভাস ও রুশ দাবি
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করেছিলেন যে, রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের হামলার জবাবে তারা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, রাশিয়া বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
উদ্ধার অভিযান ও আবাসিক এলাকায় ক্ষতি
হামলার পর কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ডারনিতস্কি জেলার একটি নয়তলা আবাসিক ভবনের একাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। একই এলাকায় একটি কিন্ডারগার্টেনের পাশেও বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং আশপাশের বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় ও রেড ক্রসের ক্ষতি
কিয়েভ মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতভর হামলার সময় ৫২ হাজার ৫০০ মানুষ, যার মধ্যে সাড়ে চার হাজার শিশু ছিল, নিরাপত্তার জন্য মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা। এদিকে, ইউক্রেন রেড ক্রস জানিয়েছে, হামলায় তাদের একটি গুদাম ধ্বংস হয়েছে। এতে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ত্রাণসামগ্রী নষ্ট হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৩ লাখ পাউন্ড।
হামলার কৌশল ও সময়কাল
স্থানীয় সময় রাতভর প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে কয়েক দফায় এ হামলা চালানো হয়। প্রথমে ড্রোন হামলা, এরপর ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং শেষদিকে আবার ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।



