ইরান-ইসরাইল সংঘাত সমাপ্তির নতুন সম্ভাবনা, পারমাণবিক ইস্যুতে এখনো অমিল
ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো ঘোলাটে অবস্থান রয়ে গেছে, যা সমঝোতার প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর তেহরান সফর ও আশাবাদ
বুধবার একজন গুরুত্বপূর্ণ পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারী ‘জটিল সংকটগুলোতে’ অগ্রগতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রধান মধ্যস্থতাকারী আসিম মুনির বুধবার তেহরান সফর করেছেন। তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকানো এবং চলমান অচলাবস্থা কাটানো।
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মুনিরের তেহরান সফরের পর দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা এবং অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে ইসলামাবাদে এর আগে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তানের আলোচনা ও হরমুজ প্রণালির সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত থামাতে আলোচনার গতি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্ভাব্য একটি চুক্তি হলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া যেতে পারে। এই জলপথ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করে দিয়েছে যে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি: প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গেছে
ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। পারমাণবিক ইস্যুতে এখনো দুপক্ষ একমত হতে পারেনি, যা সমঝোতার পথে মূল বাধা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পারমাণবিক কর্মসূচির ব্যাপারে ইরানের ঘোলাটে অবস্থান সংঘাত সমাধানের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে। যদিও সাম্প্রতিক আলোচনা ও মধ্যস্থতা আশার আলো দেখাচ্ছে, তবুও এই ইস্যুতে সমঝোতা না হলে শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সংঘাতের সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।



