৩৪ বছর পর বৈঠকে বসছেন ইসরাইল ও লেবাননের নেতারা
প্রায় সাড়ে তিন দশক পর প্রথমবারের মতো ইসরাইল ও লেবাননের নেতারা সরাসরি বৈঠকে বসছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঐতিহাসিক সভার ঘোষণা দিয়েছেন।
ট্রাম্পের ঘোষণা ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, 'ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছি। অনেক দিন—প্রায় ৩৪ বছর—দুই দেশের নেতারা কথা বলেননি। আগামীকাল তা হবে। ভালো লাগছে!' এই বৈঠকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়মিন নেতানিয়াহু অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এই বৈঠকের পটভূমিতে রয়েছে গত কয়েক মাসের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। গত ২ মার্চ থেকে ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ওপর পুনরায় হামলা শুরু করলে লেবাননও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি অভিযান
এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী স্থল অভিযান চালিয়েছে। তারা আরও এলাকা দখল করে একটি তথাকথিত 'বাফার জোন' তৈরি করার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বৈঠকটি আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বৈঠক ইসরাইল-লেবানন সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও চলমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে এর ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



