ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে আবারও ব্যর্থ
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে চতুর্থবারের মতো ব্যর্থ হয়েছে। বুধবারের ভোটে আগের মতোই দলীয় বিভক্তি স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, যেখানে ৪৭-৫২ ভোটে প্রস্তাবটি নাকচ হয়েছে।
দলীয় বিভক্তি ও ভোটের ফলাফল
ভোটের সময় রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন, যা একটি অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন, যা দলীয় বিভক্তির আরেকটি উদাহরণ। এই ভোটটি মার্কিন রাজনীতিতে যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে চলমান বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রস্তাবের মূল দাবি ও সাংবিধানিক বিতর্ক
প্রস্তাবে দাবি করা হয় যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধ শুরু করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবিধানিক ক্ষমতার বাইরে চলে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সরাসরি কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট কেবলমাত্র 'তাৎক্ষণিক আত্মরক্ষার' প্রয়োজনে এককভাবে সামরিক অভিযান চালাতে পারেন। এই আইনি দিকটি নিয়ে বিতর্ক চলমান রয়েছে।
সিনেটরদের বক্তব্য ও সমালোচনা
ভোটের আগে সিনেটর ক্রিস মারফি এই সংঘাতকে 'অগোছালো ও অব্যবস্থাপনার যুদ্ধ' হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি প্রশাসনের স্বচ্ছতার অভাব এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের তদারকির ঘাটতির তীব্র সমালোচনা করেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান সিনেটর জিম রিশ ট্রাম্পের পদক্ষেপকে বৈধ বলে দাবি করেন, যা রাজনৈতিক বিভক্তির আরেকটি নমুনা।
ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা
এদিকে, এপ্রিলের শেষ দিকে যুদ্ধ ৬০ দিনে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে। ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে কংগ্রেসকে সামরিক অভিযান অনুমোদন দিতে হবে অথবা ৩০ দিনের মেয়াদ বাড়াতে হবে। যদি তা না করা হয়, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসনকে আইনগতভাবে সেনা প্রত্যাহার শুরু করতে হবে। এই আইনি প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
এই ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে চলমান সংঘাতের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনগুলোতেও তীব্র হতে পারে, বিশেষ করে যদি যুদ্ধের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হয়।



