হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের শর্তযুক্ত প্রস্তাব
আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচল নিয়ে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যদি হরমুজ প্রণালির ওমান অংশ দিয়ে চলাচল করে, তাহলে ইরান সেক্ষেত্রে হামলা চালাবে না। তবে এই প্রস্তাবটি কার্যকর হবে শুধুমাত্র তখনই, যখন যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের দাবিগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে।
হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরকে যুক্ত করেছে। এই প্রণালির উত্তর উপকূলে ইরান অবস্থিত, অন্যদিকে দক্ষিণ উপকূলে রয়েছে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এই প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের প্রায় এক চতুর্থাংশ পণ্য এখান দিয়ে পরিবহণ করা হয়।
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ এই তিন দেশের জ্বালানি পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে আসে। এছাড়াও সার, রাসায়নিক ও অন্যান্য পণ্যের পরিবহণের জন্যও এই জলপথ অপরিহার্য।
অবরোধের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান অবস্থা
স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে। এর ফলে জ্বালানি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ঘুরপথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে, যা জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্বের অনেক দেশেই তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। ইরান অবরোধ জারি করার পর থেকে হরমুজে শত শত জাহাজ আটকা পড়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজে কয়েক শত জাহাজ এবং ২ হাজারেরও বেশি ক্রু আটকা অবস্থায় রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের নতুন প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখা দিয়েছে, যদিও তা যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল।



