ইরানের দৃঢ় অবস্থান: 'কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করব না'
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির জবাব দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। রোববার (১২ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, 'আমরা কোনো হুমকির কাছেই মাথা নত করব না।'
ট্রাম্পের হুমকি ও গালিবাফের প্রতিক্রিয়া
গালিবাফ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান সদিচ্ছা দেখাতে 'খুব ভালো উদ্যোগ' নিয়েছিল, যার ফলে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকি ইরানি জাতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান।
তার ভাষায়, 'আপনি যদি লড়াই করেন, আমরাও লড়াই করব। আর যদি যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসেন, আমরা যুক্তি দিয়েই মোকাবিলা করব। আমরা কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করব না। তারা চাইলে আবার আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করে দেখুক, যাতে আমরা তাদের আরও বড় শিক্ষা দিতে পারি।'
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা
পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপর চলমান সংঘাতের অবসানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সময় গত শনিবার (১১ এপ্রিল) শুরু হওয়া এই আলোচনা প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলে এবং রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে শেষ হয়। দুর্ভাগ্যবশত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই আলোচনা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনেকটা সময় এ নিয়ে নীরবতা পালন করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সেই নীরবতা ভেঙে একের পর এক হুমকি দিতে শুরু করেন।
ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের হুমকি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করা বা ছেড়ে আসা সব জাহাজ আটকে দেওয়া হবে। বিশ্বের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে 'অবরোধ' আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করবে মার্কিন বাহিনী।
এরপর ফক্স নিউজকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আগের হুমকিরই প্রতিধ্বনি করেন। হরমুজ প্রণালি অবরোধের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, 'হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোন জাহাজ যাবে আর কোনটি যাবে না, তা ইরান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। হয় সব জাহাজ সেখানে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পাবে, নয়তো একটিও পাবে না।'
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের তেলের জাহাজ চলাচল বন্ধ করার প্রতিশ্রুতিও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, 'আরও কিছুদিনের মধ্যেই এটা হবে, এবং খুব দ্রুতই কার্যকর হবে। আমরা প্রণালি পরিষ্কার করে দেব। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।'
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই পরিস্থিতিতে ইরানের দৃঢ় অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। গালিবাফের বক্তব্য ইরানের কূটনৈতিক ও সামরিক দৃঢ়তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকটের সমাধান শুধুমাত্র কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের পথ খোলা রাখা এবং সহিংসতা এড়ানো এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের দৃঢ়তা ও যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মধ্যবর্তী এই পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



