লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকলে ইসরায়েলে হামলার হুমকি দিলেন এরদোয়ান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েফ এরদোয়ান স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকলে ইসরায়েলে হামলার হুমকি রয়েছে। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে 'রক্ত ও ঘৃণায় অন্ধ' বলে অভিযুক্ত করে বলেছেন, 'আক্রমণ না করার কোনও কারণ নেই।' টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরদোয়ানের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রসঙ্গ
এরদোয়ান তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেছেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধে যদি পাকিস্তান মধ্যস্থতা না করতো তাহলে আমরা ইসরায়েলকে তার জায়গা দেখিয়ে দিতাম।' তিনি তুরস্কের সামরিক শক্তির উদাহরণ টেনে বলেন, 'যেমন আমরা লিবিয়া ও কারাবাখে প্রবেশ করেছি, তেমনি আমরা ইসরায়েলেও প্রবেশ করতে পারি। এটি না করার কোনও কারণ নেই।' এই মন্তব্যটি তুরস্কের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ইচ্ছাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
তুরস্কের প্রসিকিউটরদের অভিযোগপত্র দাখিল
তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই হুমকি এমন এক সময়ে এলো যখন তুরস্কের প্রসিকিউটররা নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলের ৩৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। আনাদুলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযোগপত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, নির্যাতন এবং বেআইনিভাবে স্বাধীনতা হরণের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মোট সাড়ে চার হাজার বছরেরও বেশি কারাদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে, যা এই মামলার ব্যাপকতাকে নির্দেশ করে।
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক, যিনি তদন্ত শুরু হওয়ার সময় ইস্তাম্বুলের প্রধান প্রসিকিউটর ছিলেন, এই অভিযোগপত্রের প্রশংসা করে এটিকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ইসরায়েলের তীব্র প্রতিক্রিয়া
এই পদক্ষেপে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এরদোয়ানকে লক্ষ্য করে লেখেন, 'এরোদোয়ান নিজ দেশের কুর্দি নাগরিকদের গণহত্যা করেছেন।' এছাড়া, তুরস্কের অভিযোগপত্রে নাম থাকা ব্যক্তিদের একজন ইসরাইল কাৎজ তুর্কি প্রধানমন্ত্রীকে 'মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন ব্যক্তি' বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'ইসরায়েল শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের রক্ষা করা অব্যাহত রাখবে এবং তার উচিত চুপচাপ বসে থাকা।'
ইতামার বেন গাভীর মতো ইসরায়েলি নেতারাও এরদোয়ানের সমালোচনা করেছেন। তিনি হিব্রু ভাষায় টুইট করে বলেন, 'এরদোয়ান, তুমি কি ইংরেজি বোঝো?' এরপর ইংরেজিতে যোগ করেন: 'এফ-----ইউ।' এই বাক্যবিনিময় দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈরিতার মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
ইসরায়েল-তুরস্ক সম্পর্কের অবনতি
একসময় ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্ক ভালো ছিল এবং দু’দেশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্য ও ভ্রমণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তবে, ইসরায়েল ও হামাসের সংঘাতের সময় থেকে সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে। এরদোয়ানের সাম্প্রতিক হুমকি এবং তুরস্কের আইনি পদক্ষেপ এই সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উত্তেজনা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে যদি উভয় পক্ষ সংলাপের পথ না বেছে নেয়।



