ইরানের বিক্ষোভে মোসাদ এজেন্টদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ
ইরানের সাম্প্রতিক বড় বিক্ষোভে মোসাদ এজেন্টরা সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদ থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সামগ্রিক ক্ষোভে রূপ নেয়। তবে বিক্ষোভের মধ্যে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।
ছদ্মবেশে হামলার ভয়াবহ ঘটনা
একজন ইরানি সূত্র জানিয়েছেন, তিনি তেহরানের একটি শান্ত গলিতে ঝাড়ুদারের ছদ্মবেশে এক ব্যক্তিকে রিভলভার বের করে দুটি মেয়েকে গুলি করতে দেখেছেন। এই দৃশ্য কাস্পিয়ান সাগরের কাছে একটি উত্তরের শহরে তার বাড়ির ছাদ থেকে দেখা গেছে বলে মিডল ইস্ট আইকে জানানো হয়েছে। তেহরান থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে কাজভিন শহরেও একই ধরনের ঘটনার কথা উঠে এসেছে। সেখানে আইআরজিসির ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, কোনো বিক্ষোভ ছাড়াই একটি রাস্তায় একজন মা ও তার ছোট ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, এমন অস্ত্র দিয়ে যা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর নয়।
অপরিচিত কৌশল ও নিহতের সংখ্যা বিতর্ক
৮ জানুয়ারি পূর্ব তেহরানের একটি বিক্ষোভে যোগ দেওয়া একজন ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, মুখোশ পরা একদল মানুষ একসাথে চলছিল, স্লোগান দিচ্ছিল এবং মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছিল। ইউরোপের 'ব্ল্যাক ব্লক' কৌশলের মতো তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ শুরু হলেই হঠাৎ উধাও হয়ে যেত, যা ইরানে সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি পদ্ধতি। ইরানের সরকারি হিসাবে বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। তবে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হ্রানার হিসাব বলছে, নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে সাত হাজার। এই পার্থক্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
ইসরাইলের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য
ইসরাইলের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক্সে লিখেছিলেন, ‘ইরানের রাস্তায় থাকা প্রতিটি মোসাদ এজেন্টকেও নববর্ষের শুভেচ্ছা।’ এছাড়া ইসরাইলের এক মন্ত্রী সরাসরি বলেছেন, ‘আমাদের লোকেরা এখন সেখানে কাজ করছে।’ এই মন্তব্যগুলো ইরানের বিক্ষোভে ইসরাইলের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনাগুলো আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগের দিকে নিয়ে যেতে পারে।



