৪১ দিনে ৭ আরব দেশে ইরানের ৬,৪১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
ইরানের ৪১ দিনে ৭ আরব দেশে ৬,৪১৩টি হামলা

ইরান গত ৪১ দিনে অন্তত ৬,৪১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে সাতটি আরব দেশকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে বলে আনাদোলু এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই হামলাগুলোর মধ্যে একটি ঘটনায় দুইটি যুদ্ধবিমানও ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি ইরানের সামরিক কার্যক্রমের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পরও হামলা অব্যাহত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রথম ও দ্বিতীয় দিনেও ইরানের হামলা অব্যাহত ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতি মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) ঘোষণা করা হয়, যা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির পদক্ষেপ হিসেবে এই যুদ্ধবিরতিকে দেখা হচ্ছিল।

হামলার লক্ষ্যবস্তু দেশসমূহ

যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনে (বুধবার) ইরান ১৪১টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে, যার লক্ষ্যবস্তু ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইন। দ্বিতীয় দিনে (বৃহস্পতিবার) বাহরাইন ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে মোট ১০টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। তবে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইরান এসব হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালানো হয়নি। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, তাদের বাহিনী কোনো দেশেই কোনো ধরনের হামলা চালায়নি এবং যদি কোনো হামলা হয়, তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৪১ দিনের সামগ্রিক হিসাব

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর ৪১ দিনে সবচেয়ে বেশি হামলার লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরপর যথাক্রমে কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান। সবচেয়ে কম হামলা হয়েছে ওমানে। আনাদোলুর প্রতিবেদনে দেশভিত্তিক প্রতিহত হামলার সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে:

  • সংযুক্ত আরব আমিরাত: ৫৬৩টি ক্ষেপণাস্ত্র (এর মধ্যে ৫৩৭টি ব্যালিস্টিক) এবং ২,২৫৬টি ড্রোন প্রতিহত
  • কুয়েত: ৩৬৯টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৮৪৮টি ড্রোন প্রতিহত
  • সৌদি আরব: অন্তত ১০৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৯১৬টি ড্রোন প্রতিহত
  • বাহরাইন: ১৯৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫১৫টি ড্রোন ধ্বংস
  • কাতার: অন্তত ২২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১১টি ড্রোন এবং দুইটি যুদ্ধবিমান লক্ষ্য
  • জর্ডান: ২৯১টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানা বা লক্ষ্য
  • ওমান: অন্তত ১৯টি ড্রোন লক্ষ্য

পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযান শুরুর পর ৩,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এর জবাবে ইরান ইসরাইলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নৌযান চলাচলেও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন এবং বলেন, ইরান একটি ‘কার্যকর ১০-দফা প্রস্তাব’ দিয়েছে। এখন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনটি এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরেছে।