ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত এক ডজন সামরিক ঘাঁটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ঘাঁটি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপকারের চেয়ে বেশি ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ভয়াবহ চিত্র
মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, কিছু মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলোকে 'প্রায় বসবাসের অযোগ্য' অবস্থায় বর্ণনা করা হয়েছে। ঘাঁটিগুলোর অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এতই গুরুতর যে সেখানে সামরিক কর্মীদের অবস্থান করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই
যদিও বিশেষজ্ঞরা ও মিডিয়া প্রতিবেদনে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন এখনো পর্যন্ত এসব ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। প্রশাসনের এই নীরবতা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর গোপনীয়তা নীতি
বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও ওমান—এই ছয়টি উপসাগরীয় দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা রয়েছে। গত মাসে এসব দেশের কর্তৃপক্ষ আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও ধারণ ও প্রচার নিষিদ্ধ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা ও সঠিক অবস্থান গোপন রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আঞ্চলিক সরকারগুলো সম্ভাব্য হামলার তথ্য ফাঁস হওয়া রোধ করতে চাইছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বৈরিতা সাম্প্রতিক সময়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো মেরামত না হলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
এছাড়াও, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার খবরও এই অঞ্চলের উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কৌশল ও ইরানের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।



