ইসরাইলে যুদ্ধে হতাহতের আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করল তেলআবিব
ইসরাইলে যুদ্ধে হতাহতের হিসাব প্রকাশ করল তেলআবিব

ইসরাইলে যুদ্ধে হতাহতের আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করল তেলআবিব

ইরানে বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ৪০ দিনের সামরিক অভিযানের বিস্তারিত চিত্র প্রকাশ করতে শুরু করেছে তেলআবিব। একই সঙ্গে ইসরাইলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক হিসাবও তুলে ধরেছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ।

যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও সময়কাল

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইল ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ে ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযান শুরু করে। তাদের দাবি, অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির হুমকি কমানো এবং দেশটির অভ্যন্তরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি করা।

যুদ্ধবিরতি ও হামলার ধারাবাহিকতা

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে বুধবার ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ইরান ইসরাইলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রাখে। একই সময়ে ইসরাইলি বিমান বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে পরে তা বন্ধ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরিসংখ্যান

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে ইরান ইসরাইলের দিকে প্রায় ৬৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ছিল ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেডযুক্ত, যা বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

হতাহতের বিস্তারিত তথ্য

এই হামলায় ইসরাইলে ২০ জন বেসামরিক নাগরিক ও বিদেশি নিহত হন। এছাড়া পশ্চিম তীরে আরও চার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, আহত হয়েছেন ৭ হাজারের বেশি মানুষ।

মোট নিহত ২৪ জনের সবাই বেসামরিক নাগরিক। নিহতদের অধিকাংশই হামলার সময় বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন না। এর মধ্যে ক্লাস্টার বোমায় ১০ জন এবং প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রে ১৪ জন নিহত হন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাস্তুচ্যুত ও ক্ষয়ক্ষতি

হামলার কারণে অন্তত ৫ হাজার ৫০০ জন ইসরাইলি তাদের বাড়িঘর হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

যুদ্ধের দিনভিত্তিক হামলা

যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরান প্রায় ৮০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। দ্বিতীয় দিনে প্রায় ৬০টি এবং তৃতীয় দিনে প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এরপর যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।

ক্ষেপণাস্ত্রের প্রভাব

মোট অন্তত ১৬টি প্রচলিত ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে, যাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পাশাপাশি ক্লাস্টার বোমাযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রায় ৫০টি হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে শতাধিক স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে।