যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগ: লেবাননে শান্তির দাবি
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে লেবানন পর্যন্ত প্রসারিত করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার একটি বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সমঝোতা অবশ্যই লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেবল যুদ্ধবিরতির বিষয়েই নয়, বরং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টিও উত্থাপন করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল অবশ্যই টোলমুক্ত ও বাধাহীন হতে হবে। মূলত ইরানের ট্রানজিট ফি আদায়ের প্রচেষ্টার সরাসরি বিরোধিতা করেছে যুক্তরাজ্য, যা আঞ্চলিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজও একই ধরনের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ব্রিসবেনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন যে, তার সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। অ্যালবানিজ এই সাময়িক শান্তিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করলেও একে ‘ভঙ্গুর শান্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই স্বল্পমেয়াদী বিরতি যেন শেষ পর্যন্ত একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে নিয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, লেবাননে চলমান সহিংসতা নিয়ে অনেক অস্ট্রেলীয় নাগরিক গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তার মতে, লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল সেই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রভাব
বৈরুতসহ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অ্যালবানিজ। আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক সংকটের কথা বিবেচনা করে লেবানন সীমান্তে যুদ্ধ বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে আসা এই দ্বিমুখী চাপ মূলত মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই সমাধানের পথ খোঁজার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একদিকে হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে লেবাননের সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করার বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলো একমত হয়েছে। ১০ এপ্রিলের পরিকল্পিত শান্তি আলোচনার আগে মিত্র দেশগুলোর এই অবস্থান ওয়াশিংটনের ওপর লেবানন ইস্যুটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার চাপ বাড়াবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই উদ্যোগটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



