৪০ দিন পর ইসরাইল খুলে দিল আল-আকসা মসজিদ, ফিলিস্তিনিদের নামাজের সুযোগ
দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ ৪০ দিন পর আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) মুসল্লিদের জন্য খুলে দিয়েছে ইসরাইল। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে পবিত্র এ মসজিদটি বন্ধ করেছিল তেল আবিব। আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সূত্র জানায়, পুরনো শহরে (ওল্ড সিটি) অবস্থিত এই মসজিদটি ভোরে খুলে দেওয়া হয়, যাতে শত শত ফিলিস্তিনি মুসল্লি আল-হারাম আল-শরিফ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারেন।
ফজরের আজানের সঙ্গে মুসল্লিদের ঢল
ফজরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের দরজা খুলে দিলে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি সেখানে ছুটে আসেন। অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে এবং মসজিদের আঙিনায় সেজদায় লুটিয়ে পড়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে দেখা যায়। ৪০ দিন পর প্রথমবারের মতো এখানে জামাতে নামাজ আদায় করা হয়, যেখানে শত শত মুসল্লি অংশ নেন। এই ঘটনাটি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
মসজিদ বন্ধের পটভূমি ও অন্যান্য ঘটনা
এর আগে ৬ এপ্রিল, ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতেমার বেন-গভির মসজিদ বন্ধ থাকা অবস্থায় সেখানে প্রবেশ করেন, যা বিতর্কের সৃষ্টি করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরাইল সম্পূর্ণভাবে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ বন্ধ করে দেয় এবং শুধু মসজিদের কর্মী এবং জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ-এর কর্মকর্তাদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়। আর ফিলিস্তিনিদের শহরের ছোট ছোট মসজিদে নামাজ পড়তে বাধ্য করা হয়।
এ বছর ঈদুল ফিতরের নামাজও আল-আকসা মসজিদে পড়তে দেওয়া হয়নি, যা ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ইসরাইল খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থান চার্চ অব দ্য হলি সেপালকারও বন্ধ করে দেয়, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে।
এই পদক্ষেপগুলি ইসরাইলের নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সীমিত করার অভিযোগ উঠেছে। আল-আকসা মসজিদের পুনরায় খোলা ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে, যদিও ভবিষ্যতে এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।



