ইসরাইল লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিল, ইরানের ১০ প্রস্তাবের একটি মানবে না
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা ইরানের দেওয়া ১০টি প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত লঙ্ঘন করে। বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করছে, কিন্তু এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
ইরানের প্রস্তাব ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন
ইরানের দেওয়া ১০টি প্রস্তাবের সবকয়টি মেনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যার দশম নম্বর ছিল লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করতে হবে। তবে ইসরাইল এই শর্ত মানতে রাজি নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগকে তারা সমর্থন করছে, যার লক্ষ্য হলো ইরান যেন আর পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসী হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে।
লেবাননের পরিস্থিতি ও ইসরাইলের অবস্থান
নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেন, এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে না, যদিও এটি ইরানের দেওয়া শর্তের একটি। এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সর্বত্র তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর।
পটভূমি ও হামলার কারণ
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লেবানন জড়িয়ে পড়ে ২ মার্চ, যখন ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ওপর হামলা চালায়। হিজবুল্লাহ জানায়, এসব হামলা ছিল ইসরাইলের হাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া।
মানবিক সংকট ও সামরিক অভিযান
লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২ মার্চ থেকে ইসরাইলের হামলায় দেশটিতে ১,৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করেছে এবং 'বাফার জোন' তৈরির জন্য আরও এলাকা দখলের লক্ষ্য নিয়েছে।
প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার বিষয়ে এখনো হিজবুল্লাহ বা লেবাননের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র তরফ থেকেও চুক্তিলঙ্ঘনের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এই অবস্থানে লেবাননে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।



