ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব: ইসলামাবাদ বৈঠকে আলোচনা হবে ১০ দফা শান্তি পরিকল্পনা
ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি: ইসলামাবাদে ১০ দফা শান্তি আলোচনা

ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব: ইসলামাবাদ বৈঠকে আলোচনা হবে ১০ দফা শান্তি পরিকল্পনা

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং চলমান সংঘাত নিরসনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পর অবশেষে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব সামনে এসেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইরানের ওপর হামলা বৃদ্ধির পরিকল্পনা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের পক্ষ থেকে একটি ‘বাস্তবসম্মত’ প্রস্তাব পেয়েছেন।

ইরানের বিজয় প্রচার ও শর্তাবলি

এদিকে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই ঘটনাকে তাদের বড় বিজয় হিসেবে প্রচার করছে এবং দাবি করছে যে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইরানের শর্ত মেনে নিয়েছেন। এই সমঝোতার বিস্তারিত আলোচনার জন্য আগামী ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উভয় দেশের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে বলে জানা গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি ১০ দফা শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছে, যা পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। এই ১০ দফার মধ্যে প্রধান শর্তগুলো হলো:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
  • হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
  • মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা।
  • ইরান ও তার মিত্রদের ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করা।
  • হিমায়িত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা।
  • যেকোনো চুক্তিকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রেজল্যুশন পাসের শর্ত দেওয়া হয়েছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, এই প্রস্তাবনা কার্যকর হওয়া হবে ইরানি জাতির জন্য একটি বিশাল কূটনৈতিক বিজয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ

এই ১০ দফার মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের এই রুটটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে।

ইরানের নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, তারা এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলো থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার ফি আদায় করবে এবং এই অর্থ ওমানের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যয় করবে। মার্কিন ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মার্ফি এই বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিএনএনকে বলেছেন যে, এই চুক্তি যদি ইরানকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দিয়ে দেয় তবে তা বিশ্বের জন্য এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই চরমপন্থী দাবিগুলো যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি মেনে নেবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নমনীয় সুর এবং হামলা স্থগিতের ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই ১০ দফা প্রস্তাবই আগামী শুক্রবারের ইসলামাবাদ আলোচনার মূল ভিত্তি হতে যাচ্ছে।

যদিও ইরান শুরুতেই তাদের শর্তগুলো নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে উভয় পক্ষকে বেশ কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত ১০ এপ্রিলের বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়, যেখানে নির্ধারিত হবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরবে নাকি সংঘাত আরও ঘনীভূত হবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান