ট্রাম্পের হুমকি: তথ্য দাও নাহলে জেলে যাও, ইরানে নিখোঁজ পাইলট নিয়ে উত্তেজনা
ইরানে চলমান মার্কিন আগ্রাসনের মধ্যে গত ৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ ইগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেনারা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই এক ক্রু সদস্য বা পাইলটকে উদ্ধার করে মার্কিন বাহিনী। তবে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানে আরও একজন পাইলট ছিলেন বা তিনিও নিখোঁজ আছেন—এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, কিন্তু তাৎক্ষণিক মার্কিন গণমাধ্যমেই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে আরও এক পাইলট নিখোঁজ আছে, যাকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা খুঁজছেন। এতে রেগে আগুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গণমাধ্যমকে হুমকি ও উদ্ধার অভিযানে জটিলতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোমবার (৬ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় সদস্যটি কয়েক ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ ছিলেন। ট্রাম্পের মতে, ইরান এ বিষয়ে কিছুই জানত না। এরপর একজন ‘গুপ্তচর’ এ তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস করে দেয় এবং শুরু হয় তাকে খোঁজার অভিযান।
হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী একজন এফ-১৫ ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করেছে, কিন্তু আরেকজনকে খুঁজছে—এমন খবর প্রকাশ হওয়ায় উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে পড়ে, কারণ এতে ইরান সতর্ক হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা সেই ফাঁসকারীকে খুঁজে বের করতে জোর চেষ্টা করছি। তারা মূলত বলেছে যে আমাদের একজন আছে, আর একজন নিখোঁজ। কিন্তু (ইরান) জানত না কেউ নিখোঁজ আছে, যতক্ষণ না এই ফাঁসকারী তথ্যটি দেয়।’
জাতীয় নিরাপত্তার নামে কঠোর বার্তা
ট্রাম্প বলেন, ‘এই তথ্য ফাঁসের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও কঠিন অবস্থায় পড়ে। এটি অনেক বেশি কঠিন অপারেশন হয়ে যায়, কারণ একজন ফাঁসকারী জানিয়ে দেয় যে আমরা একজনকে উদ্ধার করেছি, কিন্তু আরেকজন এখনো বাইরে আছে, যাকে আমরা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সেই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কাছে যাবে যারা এই খবর প্রকাশ করেছে এবং সূত্রের পরিচয় জানতে চাইবে। অস্বীকার করলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি কোন গণমাধ্যমের কথা বলছেন তা স্পষ্ট করেননি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা মনে করি আমরা এটা বের করতে পারব, কারণ আমরা সেই মিডিয়া কোম্পানির কাছে যাব যারা এটি প্রকাশ করেছে, এবং বলব—‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে, তথ্য দাও, নাহলে জেলে যাও।’
ইরানের পুরস্কার ঘোষণায় উদ্ধার অভিযান আরও জটিল
ট্রাম্প বলেন, খবর প্রকাশের পর ইরান নিখোঁজ পাইলটকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয়, যা উদ্ধার অভিযানে আরও জটিলতা সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, ইরান বড় ধরনের একটি ঘোষণা দিয়েছে… যে কেউ পাইলটকে ধরতে পারবে তাকে বড় অঙ্কের পুরস্কার দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সেই ফাঁসকারীকে খুঁজে বের করতে হবে, কারণ সে অসুস্থ মানসিকতার মানুষ। হয়তো সে বুঝতে পারেনি বিষয়টি কতটা গুরুতর। আমি মনে করি না সে বুঝেছিল, কিন্তু আমরা খুঁজে বের করব। এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় এবং যে ব্যক্তি এই খবর প্রকাশ করেছে, সে যদি তথ্য না দেয়, তবে জেলে যাবে।’
এই ঘটনাটি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে। সূত্র: এনডিটিভি।



