ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি: 'এক রাতেই ধ্বংস সম্ভব'
ট্রাম্পের ইরান হুঁশিয়ারি: 'এক রাতেই ধ্বংস সম্ভব'

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি: 'এক রাতেই ধ্বংস সম্ভব'

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যে তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, 'পুরো দেশটি (ইরান) মাত্র এক রাতেই ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব এবং সেই রাত হতে পারে আগামীকাল রাতই।' ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই খবর জানিয়েছে।

সময়সীমা অতিবাহিত ও ঐতিহাসিক উদ্ধার অভিযান

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বেঁধে দেওয়া সর্বশেষ সময়সীমা (মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা) অতিবাহিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে গত সপ্তাহে ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ দ্বিতীয় সেনাকে উদ্ধারের ঘটনাকে 'ঐতিহাসিক' হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী 'অবিশ্বাস্য ভালো' করছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সেনারা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, 'আমরা বিশ্বের যেকোনও প্রান্তের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী সামরিক শক্তির অধিকারী।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিখোঁজ সেনা উদ্ধারে বিশাল অভিযান

নিখোঁজ সেনাকে উদ্ধারে পরিচালিত 'বিশাল অভিযান' সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, 'যেকোনও মূল্যে ওই সেনাকে ফিরিয়ে আনতে আমি সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। আমরা কোনও আমেরিকানকেই পেছনে ফেলে আসি না।'

প্রেসিডেন্ট জানান, যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর দুই ক্রু সদস্যই ইজেক্ট করে ইরানি ভূখণ্ডে অবতরণ করেছিলেন। উদ্ধারকারী দলগুলোকে সেখানে শত্রুপক্ষের 'ভারী গোলাবর্ষণের' মুখে পড়তে হয়েছিল। এমনকি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া একটি হেলিকপ্টারে 'বুলেটের আঘাত' লেগেছে বলেও জানান তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেনার শারীরিক অবস্থা ও উদ্ধার প্রক্রিয়া

উদ্ধার হওয়া সেনার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ওই এয়ারম্যান গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তিনি এমন এক এলাকায় আটকা পড়েছিলেন যা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সন্ত্রাসীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল। ট্রাম্পের বর্ণনা অনুযায়ী, শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়া সত্ত্বেও ওই সেনা পাহাড়ের খাঁজ বেয়ে ওপরে উঠে নিজের অবস্থান জানাতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সামরিক প্রস্তুতি ও সফলতা

এই একক উদ্ধার অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিপুল প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে ট্রাম্প জানান, অভিযানে ১৫৫টি বিমান, ৪টি বোমারু বিমান, ৬৪টি যুদ্ধবিমান, ৪৮টি রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার এবং ১৩টি উদ্ধারকারী বিমান মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর কোনও ধরনের প্রাণহানি ছাড়াই ওই সেনাকে নিয়ে মার্কিন বাহিনী ইরানি ভূখণ্ড ত্যাগ করতে সক্ষম হয়।

অভিযানে অংশ নেওয়াদের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, 'বিমানের ক্রু এবং যোদ্ধারা তাদের সহকর্মীকে উদ্ধার করতে অসাধারণ ঝুঁকি নিয়েছিলেন।' তেহরানের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আবারও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনও মুহূর্তে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।